লালমনিরহাটে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘শান্তিনিবাস’ পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়
বেলাল হোসেন, লালমনিরহাট : অসহায় ও আশ্রয়হীন প্রবীণদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন লালমনিরহাটে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল ‘শান্তিনিবাস’। এ জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ভবনও নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেই ভবনে এখনো ঠাঁই হয়নি কোনো প্রবীণের। অভিযোগ রয়েছে জনবল ও সুবিধাভোগী নিশ্চিত না করেই তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করা হয় শান্তিনিবাস। তারপর থেকেই ভবনটি পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়।
২৫ জন ষাটোর্ধ্ব প্রবীণের থাকার উপযোগী করে নির্মিত আধুনিক এই ভবনটি এখন বিদ্যুৎহীন ও তালাবদ্ধ। পুরো ভবনে ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রবীণদের বদলে তিনতলা এই ভবনে এখন বাস করছে মাকড়সাসহ বিভিন্ন পোকামাকড়। লালমনিরহাট শহরের কলেজ রোড এলাকায় আল-নাহিয়ান শিশু পরিবার ভবনের পেছনে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) সংলগ্ন ৩০ শতক জমির ওপর নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এই ভবন।
বাইরে থেকে এই ভবন দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলেও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে হতাশ হতে হয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সব রুম তালাবদ্ধ। ভবনের নিচতলায় বিশাল ডাইনিং রুমের আসবাব, আধুনিক শরীরচর্চার যন্ত্রপাতি ও স্বাস্থ্যসেবা কর্নারের চিকিৎসা সরঞ্জামে ধুলার আস্তর পড়েছে। ভবনে রয়েছে প্রবীণদের জন্য লিফট সুবিধা, সুবিধাভোগীদের জন্য শয্যাকক্ষ, প্রার্থনা কক্ষ, রিডিং রুমসহ সব আধুনিক সুবিধা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিফট অপারেটিং চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট লালমনিরহাট শহরের সরকারি শিশু পরিবারের ক্যাম্পাসে শুরু হয় শান্তিনিবাসের নির্মাণকাজ।
২০২৩ সালে নভেম্বরে ভবনটি উদ্বোধন করেন আওয়ামী সরকারের তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ। দীর্ঘদিনেও কোনো জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় ভবনটি নামকাওয়াস্তে দেখভাল করছে লালমনিরহাট সরকারি শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুনশান্তিনিবাসের দেখভাল করা দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) উপ-তত্ত্বাবধায়ক হাওয়া বেগম জানান, বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে। তাই তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভবন দেখভাল করছেন। জনবল না থাকায় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
কথা হলে লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্প ‘শান্তিনিবাস’। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগে আটটি সরকারি শিশু পরিবারের অভ্যন্তরে এসব অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালে। রংপুর বিভাগের ‘শান্তিনিবাস’ লালমনিরহাটে নির্মিত হয়েছে। পদ সৃজনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পদ সৃজনের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা করেন।
এ প্রসংগে কথা হলে জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, লালমনিরহাটে প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিবাসটি এখনও চালু না হওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছেন। শিগগিরই প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হবে।
মন্তব্য করুন







