তবুও লালমনিরহাটে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, প্রশাসন সরব
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতের অন্তত ৯টি জেলায় সক্রিয় রয়েছে একাধিক মাদকের কারখানা। যেখান থেকে সীমান্ত দিয়ে অনায়াসে দেশে ঢুকছে মাদকদ্রব্য। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানের পরও জানা যায় লালমনিরহাট সীমান্তের অন্তত ২৬টি রুটকে নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার করে দেশে ঢুকছে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা প্রকার মাদক।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক জব্দ অভিযানের পরও এসব চালান সড়ক, রেলপথ ও নৌ-পথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। লালমনিরহাটে পাড়া-মহল্লায় হাত বাড়ালেই মিলছে সব ধরণের মাদক।
ফেনসিডিল ও ইয়াবায় ডুবে থাকছে উচ্চবিত্ত থেকে নি¤œবিত্ত শ্রেণির হাজারো মানুষ। তালিকায় রয়েছে উঠতি বয়সের যুবক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যে চক্রটি মাদক চোরাচালানে সক্রিয় ছিল, সেই একই চক্রটি সুযোগ বুঝে আবার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ২৪৮ কিলোমিটারজুড়ে ভারতের সাথে সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে বিজিবির তিনটি ব্যাটালিয়ন। এসব ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা অর্ধশতাধিক পয়েন্ট দিয়ে আসছে ফেনসিডিল, গাজা, মদ ও ইয়াবা। বিশেষ করে পাটগ্রামের জোংড়া, জগতবেড়, নাজির গোমানি, বুড়িমারী, সানিয়াজান, হাতীবান্ধার ভুটিমঙ্গল, শালমারীর চরসহ বিভিন্ন স্পটকে মাদক পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাচালানি সিন্ডিকেট।
আরও পড়ুনএরকম একটি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা সইদার রহমান বলেন, সীমান্তে রাতে নো-ম্যান্সল্যান্ড চোরাকারবারিদের দখলে চলে যায়। মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস কিংবা থ্রি-হুইলারে করে বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণ-যুবকেরা মাদক সেবন করতে সীমান্ত গ্রামে ছুটে আসে। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে। প্রায়ই ছোট ছোট চালান ধরা পড়লেও নেপথ্যের মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছে।
এদিকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। গত ২১ আগস্ট রাতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষক মারা যান। আরিফুল নামের ওই শিক্ষক আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে ছিলেন।
কিন্তু এতোকিছুর পরও মাদক নির্মুল না হবার পেছনে কারণ কি, এনিয়ে রীতিমত সমাজ সচেতন মানুষের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। ভাবিয়ে তুলেছে খোদ প্রশাসন ব্যবস্থাকেও। অবশ্য তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন এনিয়ে শুধু ঢালাও ভাবে প্রশাসনকে দায়ি করলে চলবে না, দায়িত্ব নিতে হবে সমাজ ব্যবস্থাকেও।
এনিয়ে কথা হলে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, মাদকের ব্যপারে পুলিশ পুরোপুরি জিরোটলারেন্স। তার মতে মাদকসেবী বা বিক্রেতা যতবড়ই হোক না কেন যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা সন্ধান পাওয়া যায় তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
মন্তব্য করুন




_medium_1790430134.jpg)
_medium_1790429765.jpg)


_medium_1790401862.jpg)