সংবিধানে গণভোট না থাকলে সরকারও নেই : রংপুরে লংমার্চের সমাপনি সমাবেশে ডা: শফিকুর রহমান
রংপুর জেলা প্রতিনিধি: জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি সাহস করে বলতে পারে না, গণভোট মানি না। তবে ইনিয়ে বিনিয়ে বলে সংবিধানে গণভোট নেই। সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে তাহলে ২০২৬ সালে কোন নির্বাচনও নেই।
কোন সরকারও নেই। মানতে হলে সবটাই মানতে হবে আর না মানলে সব বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন দেখা যাবে, কার বুকের পাটা কতটুকু। সংবিধান মেনে ২০২৪ এ গণ বিপ্লব হয়নি। ফ্যাসিস্টদের আপনারা, আমরা সংবিধান অনুসরণ করে তাড়াতে পারিনি। সংবিধানের বাইরে গিয়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ৮ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের বক্তব্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ৬ দফা দাবি নিয়ে লং মার্চে নেমেছি কিন্তু দ্বিতীয় লং মার্চে আরও দুটি দাবি যোগ করেছি। এই দাবিগুলো আমাদের কোন দলের নয়।
এই দাবিগুলো দেশের জনগণের। ১৮ কোটি মানুষের দাবি। আমরা এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নেমেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই রংপুরে হ্যাঁ ভোটে ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হ্যাঁ ভোটের অঙ্গীকার রাখলেন না। জনগণ ৭০ ভাগ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভোটের রায় মানেননি। অগ্রাহ্য করেছেন। জাতির কাছে কথা দিয়ে কথা রাখেননি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই অঞ্চলের এক মন্ত্রী নির্বাচনের আগে তিস্তা বাস্তবায়ন নিয়ে আন্দোলন করেছেন। কোন্ঠে বাহে জাগো সবায়। সংসদের ভিতরে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শেষে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেছিলেন, যে নামেই হোক তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু সাত মাস হয়ে গেল। কোন নড়াচড়া নেই। কোনদিক থেকে কোন পানি পড়া খেলেন। এখন আর কোমরে জোর দেখি না। জনগণকে ধোঁকা দেওয়া ঠিক হবে না।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর রাত ৯ টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠের মঞ্চে ওঠেন। পরে ৯টা ২০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি এসময় ১০ মিনিট বক্তব্য রাখেন। ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনি সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমীর ও বদরগঞ্জ তারাগঞ্জ আসনের এমপি এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
আরও পড়ুনডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বলেছিলাম, ক্ষমতায় গেলে এই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করবো। কিন্তু নির্বাচনে ভোটের ইঞ্জিনিয়ারিং করে আপনারা ক্ষমতায় আসলেন। আমরা অন্যায্য নির্বাচন মেনে নিয়েছি। যাতে দেশটা ভালো চলে। কিন্তু আপনারা যে সব কথা দিয়েছেন সব ভুলে গেছেন। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে সব ভুলে গেলেন। যে পথে হাসিনা চলে গেছে, সেই পথ ধরেই বর্তমান সরকার হাঁটছে।
যদি একই পথে হাঁটেন, তাহলে পরিণতি একই হবে। সারাদেশের মতো রংপুরেও বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। তবে চাঁদাবাজি আছে। কেউ কাজ না পেলেও একটি দলের কর্মীরা কিন্তু কাজ ঠিকই পাচ্ছে। দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এই সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।
রংপুরমুখী এই লং মার্চে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেলের সংকট দূর করা, দলীয়করণ, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৮ দফা দাবি তোলা হয়।
এদিকে ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনি সমাবেশস্থলে সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা আসেন। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাঠ। মাঠ ছাড়িয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ও আশেপাশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
মন্তব্য করুন







