ফুটবলে প্রথমবার চালু হচ্ছে ‘ব্ল্যাক কার্ড’
স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলে এতদিন শাস্তির সংকেত হিসেবে পরিচিত ছিল লাল ও হলুদ কার্ডের। এবার ইউরোপের ফুটবলে যুক্ত হলো নতুন ‘ব্ল্যাক কার্ড’। তবে খেলোয়াড়দের অপরাধের জন্য নয়, যুব ফুটবলে অভিভাবক ও দর্শকদের অশোভন আচরণ নিয়ন্ত্রণে এই কার্ড চালু করেছে রোমানিয়া ফুটবল ফেডারেশন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রোমানিয়া ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, বয়সভিত্তিক ফুটবল ম্যাচে অভিভাবক ও দর্শকদের গালাগালি, হুমকি, ধাক্কাধাক্কি কিংবা অন্যান্য আপত্তিকর আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন নিয়মটি কার্যকর করা হয়েছে। কাতালান সংবাদপত্র ‘স্পোর্ট’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এটিকে একটি অগ্রণী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোমানিয়া ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, ফুটবল শিশুদের জন্য আনন্দ ও সুস্থ বিকাশের জায়গা হিসেবেই থাকা উচিত। ফেডারেশন জানিয়েছে, জরুরি কমিটি গত ১১ সেপ্টেম্বর নতুন নিয়মটি অনুমোদন করেছে। ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতায় এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এর মূলনীতি হলো, গ্যালারিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চাকাক্সক্ষা, চাপ কিংবা হতাশার শিকার যেন শিশুরা না হয়।
কখন দেখানো হবে :
ব্ল্যাক কার্ড দেখানো হলে ম্যাচ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। দর্শক বা অভিভাবকদের অশোভন আচরণের কারণে খেলা আর চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে সরাসরি ব্ল্যাক কার্ড দেখানো হবে না। প্রথমে রেফারি সতর্ক করবেন। তিনি কোচদের মাধ্যমে দর্শকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানাবেন এবং মাইকে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। আচরণ বন্ধ না হলে ম্যাচ ১০ মিনিটের জন্য স্থগিত করে দুই দলের খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে পাঠানো হবে। খেলা আবার শুরু হওয়ার পরও একই ধরনের আচরণ চলতে থাকলে তৃতীয় সতর্কবার্তার পর রেফারি ব্ল্যাক কার্ড দেখাবেন। তখন ম্যাচ শেষ করে দেওয়া হবে এবং আর পুনরায় শুরু করা যাবে না। চতুর্থ রেফারি বা অন্য ম্যাচ কর্মকর্তারা থাকলে তারা এ সিদ্ধান্তে রেফারিকে সহায়তা করবেন।
নতুন নিয়মে গালাগালি ও অপমানজনক মন্তব্যের পাশাপাশি শিশুদের মারধর বা ধাক্কা দেওয়া, নিজেদের দলের কোচিং স্টাফকে অপমান, আঘাত বা ধাক্কা দেওয়া শাস্তিযোগ্য আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফকে অপমান, মারধর বা ধাক্কা দেওয়া, রেফারি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের বারবার চ্যালেঞ্জ বা অপমান করা, তাদের ওপর শারীরিক হামলা এবং অন্য অভিভাবক বা দর্শকদের সঙ্গে মৌখিক কিংবা শারীরিক বিরোধে জড়ানোও এই বিধানের আওতায় পড়বে।
ফেডারেশনের ভাষ্য, ব্ল্যাক কার্ড মূলত একটি বার্তা—গ্যালারির আচরণ যখন শিশুদের জন্য ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র : গোল ডট কম
মন্তব্য করুন

_medium_1789201761.jpg)
_medium_1789201260.jpg)
_medium_1789199767.jpg)
_medium_1789199269.jpg)
_medium_1789198562.jpg)
_medium_1789193443.jpg)
_medium_1789204726.jpg)
_medium_1789204539.jpg)
_medium_1789204276.jpg)