ভিডিও বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:২০ পিএম

এসআরবি বিল পাস, র‍্যাব বিলুপ্ত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন এলিট ফোর্স স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করলে সেটি কণ্ঠভোটে দেন স্পিকার মির্জা হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‌্যাব ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬ ইতোমধ্যে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে বিলটি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, সমাজের চাহিদা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউনিট কিংবা বাহিনীতে পরিবর্তন আনতে হয়। সেজন্য আমরা এটা করছি। একটি সংস্থা গঠনের সঙ্গে আরেকটি বিলুপ্তির সম্পর্ক নেই। নতুন বাহিনীটা আমরা এ কারণে করছি যে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধীনে র‍্যাব গঠন করা হয়েছিল। সেই আইনটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটা সেকশনের অধীনে ইউনিটটি কাজ করছিল।'

'সেজন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে আমরা এটা বের করে নিয়ে এসে বিলুপ্ত করতে চাই। একইসঙ্গে এই আইনে ইংরেজিতে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, সেই আইনটাও আমরা অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে নিয়ে আসছি,' বলেন তিনি।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক করা হবে।

 

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করা হবে।

আরও পড়ুন

পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করতে ২০০১-০৬ মেয়াদে তৎকালীন বিএনপি সরকার একটি এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করে। পরে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে র‌্যাব আত্মপ্রকাশ করে। একই বছরের ২১ জুন থেকে র‌্যাব পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

দুই দশক আগে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের কাজে গঠিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর আসে। মানবাধিকারকর্মী ও সমালোচকরাও এই বাহিনীকে 'সরকারি ডেথ স্কোয়াড' হিসেবে অভিহিত করে আসছিলেন।

নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত সাত খুন মামলা থেকে শুরু করে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়া পর্যন্ত নানা ঘটনায় বাহিনীটি বেশ কুখ্যাতি অর্জন করে। 

এর মধ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবে দায়িত্বপালনকারী ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। 

এত কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে বছরের পর বছর ধরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন র‌্যাব সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। 

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই দাবি আরও জোরালো হয়। বিভিন্ন সময়ে গুমের ঘটনা তদন্তে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিশনের কাছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুমের ১৭২টি অভিযোগ জমা পড়ে, যা যেকোনো বাহিনীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।

এরপর বিএনপি সরকার গঠনের পর র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন সংস্থা গঠনে গত ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এসআরবি বিল পাস, র‍্যাব বিলুপ্ত

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি : শফিকুর রহমান

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির ধরঞ্জীতে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় র‍্যাবের মতো বাহিনী প্রয়োজন: বাবর

পেঁয়াজের গায়ে কালো দাগ থাকলে খাবেন নাকি ফেলে দেবেন