ভিডিও বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৩৬ পিএম

ইরানে আটক সাবমেরিন ড্রোনটি বিকল হয়ে পড়েছিল : যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে আটক সাবমেরিন ড্রোনটি বিকল হয়ে পড়েছিল : যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে ইরানের হাতে আটক মার্কিন সাবমেরিন ড্রোনটি এক দিনেরও বেশি আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ড্রোনটি পুরোনো মডেলের এবং এতে সংবেদনশীল কোনো তথ্য বা গোপন সামরিক সরঞ্জামও ছিল না।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, এর আগে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন চালকবিহীন ওই সাবমেরিন ড্রোনটি আটক করার কথা জানায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা মার্কিন সাবমেরিন ড্রোনটিকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত দাবি করে ছবিও প্রকাশ করে। এই ঘটনাটি সামরিক অভিযানে পানির নিচে চালকবিহীন ডুবোযান ব্যবহারের বিরল চিত্রও সামনে এনেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আটককৃত মার্কিন সাবমেরিন ড্রোনটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি একটি বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। ১৯ ফুট (৫ দশমিক ৮ মিটার) দীর্ঘ এই সাবমেরিন ড্রোনটি মাইন শনাক্ত ও অপসারণ, সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পানির নিচের কেবল ও পাইপলাইনের মতো অবকাঠামো পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডস নেভি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক, বুদ্ধিমান ও চালকবিহীন সাবমেরিনগুলোর একটি আমরা আটক করেছি। এই ডুবোযান সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।’

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, (যুক্তরাষ্ট্রের) একটি চালকবিহীন ডুবোযান এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘চলমান অভিযানের সহায়তায় এটি ওই অঞ্চলের জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল। বিকল হয়ে যাওয়া ডুবোযানটি পুরোনো মডেলের। এতে সংবেদনশীল কোনো তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা নেই এবং এতে সংবেদনশীল কোনো তথ্য ও সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।’

আরও পড়ুন

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলও তাদের একটি ডুবোযান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে ছোটখাটো বিষয় হিসেবে দেখিয়েছে। অ্যান্ডুরিলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ডাইভ-এলডি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যেটিকে শুরু থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও এর নকশার অংশ হিসেবেই ধরা হয়।’ রয়টার্স বলছে, নাবিকদের ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং শত্রুপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিনের গতিবিধি শনাক্তের তুলনামূলক কম খরচের উপায় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পানির নিচে ও পানির ওপর চলাচলকারী চালকবিহীন নৌযানসহ বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন নৌব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

অ্যান্ডুরিলের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়েই টানা ১০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে। এটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার (১৯ হাজার ৭০০ ফুট) গভীরতায় গিয়ে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপ ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ-এলডি ইউনিটের দাম প্রায় ২৫ লাখ ডলার।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে আটক সাবমেরিন ড্রোনটি বিকল হয়ে পড়েছিল : যুক্তরাষ্ট্র

বাঁধনের ওপর হামলা একটি ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক অপরাধ : রিজভী

হরমুজে চালকহীন মার্কিন সাবমেরিন আটক করলো ইরান

রুল খারিজ, ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয় : হাইকোর্ট

ইসরায়েলি পণ্যে নিষেধাজ্ঞায় একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-কানাডাসহ ১২ দেশ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পর্যালোচনা সভা