ভিডিও শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯ এএম

তেল সংকট কাটেনি, চড়া ডিম মাছের বাজার

বাজারে স্বস্তি নেই

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : নিত্যপণ্যের বাজার বেশ অনেকদিন ধরেই চড়া। আজ এক পণ্যের দাম বাড়ে তো, কাল অন্য পণ্যে অস্বস্তি। যেন দরবৃদ্ধির কোনো প্রতিযোগিতা চলছে বাজারে। আর তাতে মাছে-ভাতে বাঙালি এখন অনেকটা কাগজে কলমেই থাকতে দেখা যাচ্ছে।

নদীতে মাছ কম ধরা পড়ায় দুই-তিনদিনের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছে। নদীর অন্য মাছের দাম কিছুটা কমলেও এখনও স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরেই বেশিরভাগ। কারণ ছাড়াই রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ চাষের মাছের দামও ক্রেতাদের মতে, কেজিপ্রতি ২০-৩০টাকা বাড়তি।

সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষত শুকিয়ে সবজির বাজার কিছুটা স্বস্তিদায়ক হচ্ছিল। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও শিম, বরবটি, বেগুনের কেজিতে বেড়েছে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত। অবশ্য সরবরাহ বাড়ায় পটোল, ঢেঁড়স, কাঁচা মরিচ মিলছে কিছুটা কম দরে। বিক্রেতাদের মতে, দাম যাই থাকুক বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বেচাবিক্রি কমেছে অনেক।

এদিকে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে পণ্যের দাম এখন পর্যন্ত না বাড়লেও সীমিত আয়ের বেসরকারিখাতে গড় মঞ্জুার বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হওয়ায়। আয়-ব্যয়েরহিসাব মেলানো এমনিতেই কঠিন।

রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি। দাম বাড়ানোর পরও অনেক দোকানে এক লিটারের বোতলজাত তেল মিলছে না। একই সঙ্গে ডিম ও মাছের বাজারও চড়া। বেড়েছে বেশির ভাগ সবজি মুরগির দামও। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রায়সাহেব বাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজারে বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল ১৯৯ টাকা। তবে নতুন দাম নির্ধারণের পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে খোঁজ নিয়ে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। তবে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল কিছু দোকানে পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহকারীরা চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছেন না। নতুন দাম ঘোষণার পরও কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবে অর্ডার নিচ্ছে না। অল্প পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মো. তাহের নামে সেগুনবাগিচা আবাসিক এলাকার মুদি দোকানি জানান, একদিকে তেলের অর্ডার দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না। 

অন্যদিকে ২০০ টাকার একটি তেলের বোতলে খুচরা বিক্রেতার কমিশন কমিয়ে দেড় টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে বাজারে ডিমের দামও চড়া। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৬০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা হিসেবে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৩ টাকা। চারটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫২ টাকা। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মিত খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ এই পণ্যটির বাড়তি দামে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। মুরগির বাজারে অবশ্য তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। রায়সাহেব বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও প্রায় অপরিবর্তিত, প্রতি কেজি ৮০০ টাকার কাছাকাছি। 

আরও পড়ুন

সবজির বাজারেও রয়েছে বাড়তি চাপ। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটোল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

শীতের আগাম সবজি শিমের দামও চড়া। বাজারে প্রতি কেজি শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪০ টাকা কেজি। শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি হলেও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কাঁচামরিচের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। তবে শাকের বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। লালশাক ও কলমিশাক ১০ টাকা আঁটি, ডাঁটাশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউশাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচুশাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।


এদিকে মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রায়সাহেব বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৬০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।

রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নদীর বেলে মাছের মতো দেশি ও তুলনামূলক চাহিদাসম্পন্ন মাছ কিনতে গেলে প্রতি কেজিতে ১ হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মাছের দাম মূলত আকার, মান এবং জীবিত না মৃত-এসবের ওপর নির্ভর করে। একই ধরনের মাছের ক্ষেত্রেও বাজার ও সরবরাহ অনুযায়ী প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দামের পার্থক্য হতে পারে। বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, একদিকে ডিম ও মাছের দাম চড়া, অন্যদিকে বেশির ভাগ সবজির দামও চড়া। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসারের বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ওয়ারী থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, বাসায় গ্যাসের সমস্যা থাকায় প্রতিদিন রান্না করা যাচ্ছে না। তাই আগের মতো বেশি করে সবজি বা অন্যান্য পণ্য কিনছি না। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে কিনছি। তবে দাম একটু কম হলে আমাদের জন্য ভালো হতো। সূত্রাপুরের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। সবজি, মাছ, চাল সবকিছুর দাম বাড়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে নিয়মিত মনিটরিং বাড়ানো দরকার।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাজারে স্বস্তি নেই

আপনাদের পরিণতি ভালো হবে না: আখতার হোসেন

সাভারে বন্ধ ঘর থেকে ৩ জনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব: ডা. শফিকুর রহমান

৬ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১০, আহত ৬২