ইমরান খানের জন্য ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চান সাবেক স্ত্রী জেমিমা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ।
ইমরানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য দেশটির সরকারের ওপর চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেমিমা বলেন, পাকিস্তানকে অবশ্যই দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে ইমরানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে, দীর্ঘদিনের একাকী বন্দিত্বের অবসান ঘটাতে হবে এবং তার মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে।
জেমিমা দাবি করেন, প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা ইমরান দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বে রয়েছেন এবং প্রায় ১০ মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাকে বই, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের কাছ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, “ব্রিটেন আর কতদিন নীরব থাকবে?”
জেমিমা জানান, ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে বহুমুখী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডের মাধ্যমে তার পরীক্ষা ও চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তাকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করলে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ইতোমধ্যে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে। দলটির অভিযোগ, ইমরানকে শিফা হাসপাতালে না নেওয়া, মেডিকেল বোর্ড গঠন না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতানকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত না করাসহ আদালতের একাধিক নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনএদিকে পাকিস্তান সরকার সুপ্রিম কোর্টের ১৮ আগস্টের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে। সরকারের দাবি, কোনও বন্দীকে কারাগারের বাইরে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি পাকিস্তান প্রিজন রুলস, ১৯৭৮ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ওই বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জেমিমা তার দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর দূর থেকে দেখতে হচ্ছে। তাদের পাকিস্তান সফরের জন্য ভিসা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইমরানের ছেলেরাও এর আগে বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেও কাসিম খান তার বাবার মুক্তি এবং তার প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি আদিয়ালা কারাগারে ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় সাজা ভোগ করছেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত বিক্ষোভ-সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলা তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন।
জেমিমা বলেন, ইমরানের বিষয়টি এখন আর শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু নয়। তার ভাষায়, পাকিস্তান কমনওয়েলথের সদস্য এবং ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার ঐতিহ্য রয়েছে। তাই নির্বিচার আটক, অমানবিক আচরণ ও মৌলিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ব্রিটেনকে প্রকাশ্যে ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
_medium_1787653521.jpg)
_medium_1787645823.jpg)
_medium_1787642321.jpg)



_medium_1787649259.jpg)
_medium_1787645046.jpg)
_medium_1787638253.jpg)