ভিডিও শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৫৪ পিএম

বগুড়ার সোনাতলায় শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানে ২২ বছরেও হয়নি একাডেমিক ভবন 

বগুড়ার সোনাতলায় শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানে ২২ বছরেও হয়নি একাডেমিক ভবন 

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : শতভাগ পাশের তালিকায় নাম উঠানো বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় এম.এইচ. ইউনিহেল্প উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ বছরেও কোন একাডেমিক ভবন হয়নি। ফলে ঝুপড়ি টিনসেড ভবনে গাদাগাদি অবস্থায় বসে পাঠদান ও পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে দিগদাইড় ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী এলাকায় ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনিহেল্প উচ্চ বিদ্যালয়। প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর ২২ বছরে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ম ও ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এছাড়াও ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী গত কয়েক বছরে জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিবছর ওই প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে উপজেলায় শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি একেবারে পল্লী এলাকায় অবস্থিত। যে এলাকার ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষিকাজের সাথে জড়িত। প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে পরিবার পরিজন নিয়ে টিকে থাকতে হয়। যাদের বেশিরভাগ অভিভাবক ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার ব্যাপারে এক সময় উদাসীন ছিলেন।

আরও পড়ুন

সেই এলাকায় গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানটি খুব অল্প সময়েই সুনাম কুড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। স্থানীয়রা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ধরে রাখতে স্কুল সময়ের পরেও সন্ধ্যাকালীন (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত) ওই বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাস চলে। এজন্য অভিভাবকদের কাছ থেকে কোন টাকা নেয়া হয় না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রতন বলেন, যে এলাকার অভিভাবকেরা একসময় ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখায় উদাসীন ছিল, আজ তারা অনেক সচেতন। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার বিষয়ে তারা এখন মনোযোগী। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার ২২ বছর অতিবাহিত হলেও আজও এ প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে ঝুপড়ি ঘরে ক্লাস করতে হয়। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম আর লোড শেডিংয়ে শিক্ষার্থীদেরকে নাজেহাল হতে হয়।

ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শাহানুর ইসলাম সাজু বলেন, একসময় এই এলাকার মানুষ শিক্ষা কী এ সম্পর্কে সচেতন ছিল না। সেই এলাকাটি আজ আলোকিত। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ নজমুল ইসলাম বলেন, এটি একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। পাবলিক পরীক্ষায় প্রতি বছর ঈর্ষান্বিত ফলাফল করে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় ওই বিদ্যালয়ে কোন ভবন না হওয়ায় ছেলেমেয়েরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সোনাতলায় শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানে ২২ বছরেও হয়নি একাডেমিক ভবন 

নাটোরের বড়াইগ্রামে পুকুর থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর হাটে আমন ধানের চারার দাম চড়া, বিপাকে কৃষক

আগামী পাঁচ বছরে কুষ্টিয়া সদর আসনে আমিই প্রধানমন্ত্রী: আমির হামজা

নীলফামারীর ডিমলা থানার ছাদের পলেস্তার ধসে এএসআই আহত 

নওগাঁর মান্দায় মসজিদে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম