ছাত্রদলের নতুন কমিটি: আলোচনায় উত্তরাঞ্চলের চার ছাত্রনেতা
ঢাবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির দুই বছরের মেয়াদ গত মার্চেই শেষ হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হতে পারে। এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা, জল্পনা ও প্রত্যাশা তুঙ্গে উঠেছে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগস্টের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহেই ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সম্ভাব্য এ ঘোষণাকে সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
নতুন কমিটির সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। লালমনিরহাটের এই ছাত্রনেতা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ। জয়পুরহাটের এই ছাত্রনেতার পাশাপাশি একই পদে আলোচনায় আছেন বগুড়ার দুই নেতা—বর্তমান তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান শাকিল।
নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন,ছাত্রদল একটি গতিশীল সংগঠন, কমিটি গঠনও একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সাংগঠনিক অভিভাবক জনাব তারেক রহমান, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যারা মামলা হামলার শিকার হয়েছে,বিগত ফ্যাসিবাদ আন্দোলনে যারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং গতিশীল, পরিচ্ছন্ন ইমেজসম্পন্ন ত্যাগী নেতা কর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করবেন।
মাহমুদ ইসলাম কাজল বলেন, "ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এমন নেতৃত্ব আসুক, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে পরীক্ষিত, ছাত্রবান্ধব, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে সক্ষম। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সচেতন, মেধাবী ও দায়িত্বশীল তরুণ নেতৃত্বই হোক আগামীর ছাত্রদলের চালিকাশক্তি।"
আরও পড়ুনস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আস্থাভাজন জাহিদ হাসান শাকিল বলেন,
"বাংলাদেশের ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের আদর্শকে ধারণ করেই কাজ করতে চাই। ঐক্য, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। কারণ পদ বড় নয়, দায়িত্বই বড়। যে যেখানে আছি, সেখান থেকেই সংগঠনের জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখাই আমাদের অঙ্গীকার।"
এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান কমিটিকে ঘিরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের আধিপত্য এবং কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে দলের উচ্চপর্যায় অসন্তুষ্ট। সে কারণে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নতুন কমিটিতে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ত্যাগী, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, বিতর্কমুক্ত এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপযুক্ত নেতৃত্ব না পাওয়া গেলে ব্যতিক্রম হিসেবে অভিজ্ঞ ও অপেক্ষাকৃত সিনিয়র ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে।
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি কবে ঘোষণা হবে, শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসবেন—এখন সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
মন্তব্য করুন









