লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক যেন মৃতু ফাঁদ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বৃহত্তর রংপুরের গুরুত্বপূর্ণ লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক এখন যেন এক দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ পথ। প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকরা।
বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সড়কের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ছোট ছোট গর্ত এখন বড় আকার ধারণ করেছে। ভারী যানবাহনের চাপ, টানা বর্ষণ এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহণ শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের প্রায় ৩০টি পয়েন্টে বড় ধরণের খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম এবং বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দর সংলগ্ন অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক স্থানে যানবাহনকে গতি কমিয়ে একপাশ দিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট এবং সময় নষ্ট হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি।
ভারত ও ভুটানের সাথে বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার বুড়িমারী স্থলবন্দরেও এই সড়কই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহণের সময় যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবহণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুনলালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কটি নিয়মিত মেরামত করা হলেও পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে তা বেশি টিকে না। বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে প্রতিটি ট্রাকে ৪০ থেকে ৫০ টন পাথর পরিবহণ করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৫শ’ টি পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করে।
কথা হলে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, গেল অর্থবছরে সড়কটি মেরামতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
জরুরি বরাদ্দের টাকা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের পাশাপাশি সাময়িক সংস্কার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার শুরু করা হবে।
মন্তব্য করুন







