ভিডিও রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০২ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:১২ পিএম

ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে 

সংগৃহীত,ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রামের আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ এ আদেশ দেন। খুন ও অস্ত্র উদ্ধারের পৃথক দুটি মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। তিনি বলেন, ফটিকছড়ি থানার জামাল হত্যা এবং সম্প্রতি ফটিকছড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় ইমনকে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। 


তিনি জানান, অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় আরও চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। তারা হলেন- মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ, মোহাম্মদ শামীম, মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন ও আল ইসলাম আলিফ।

পরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. লোকমান হাকিমের আদালতে হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন আদালত। ডেভিড ইমনকে যে দুই মামলায় রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ, তার একটি—গত জানুয়ারিতে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় গুলিতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী জামাল উদ্দিন হত্যা মামলা। অন্যটি বৃহস্পতিবার হওয়া অস্ত্র মামলা।

গত ৩০ জুলাই ডেভিড ইমনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের জোড়া খুনসহ অন্তত ১৮ মামলার আসামি। ২৮ জুলাই দিবাগত রাত তিনটার দিকে যশোরের কোতয়ালির ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চারটি ও কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম এ অভিযানে ছিল। সেখানে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশও ছিল। পরে ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন

ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। এলাকায় তার ছিল সাধারণ জীবনযাপন। কিন্তু শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর চট্টগ্রামে একের পর এক খুনে নাম জড়ায় তার। পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন সাজ্জাদের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড'। 
 
১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। 

হামলার দু'দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন। ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, 'আমার নাম ডেভিড ইমন, আমার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।' ওই হুমকির দুদিন পর নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। 

হামলাকারীরা ডিডিএন অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চকবাজার থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৭ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে 

মিনিস্টারে ম্যানেজার নিয়োগ, কর্মস্থল ঢাকা

ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বেঁচে থাকুক আমাদের সম্পর্ক কবর পর্যন্ত 

সরকারের নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলা অপরাধ : তথ্যমন্ত্রী

বাড়লো এলপিজির দাম