ভিডিও বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:০৭ পিএম

এক পা আর একটি বাইসাইকেলে চলছে মোক্তার হোসেনের জীবন যুদ্ধ

এক পা আর একটি বাইসাইকেলে চলছে মোক্তার হোসেনের জীবন যুদ্ধ

পাবনা ও বেড়া প্রতিনিধি: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চার দশক ধরে এক পায়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন মোক্তার হোসেন(৬৫)। যে বয়সে কর্মক্ষম ছেলের ভরণপোষণে একটু আরাম আয়েশে থাকার কথা, সেই বয়সেও তিনি প্রতিদিন এক পায়ে বাইসাইকেল চালিয়ে শিক্ষকতা করে চলেছেন। অদম্য মোক্তার হোসেনের বাড়ি পাবনার বেড়া পৌরসভার শাহপাড়া মহল্লায়।

একটি পা, একটি বাইসাইকেল আর অসীম সাহস নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর  ছুটে চলেছেন মোক্তার হোসেন। শরীরের একটি পা অকার্যকর, একটি হাতও স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্বল। তবুও জীবনের কাছে হার মানেননি তিনি। লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটেন, সেই লাঠি সাইকেলের সঙ্গী করে এক পায়ে চালিয়ে যাচ্ছেন জীবনযুদ্ধ। মোক্তার হোসেনের মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ডান পা অকার্যকর হয়ে যায়।

একইসাথে তার ডান হাতও দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন মোক্তারকে শিখতে হয়েছে কীভাবে একটি পা নিয়েই জীবনের সঙ্গে চলতে হয়। প্রতিবন্ধকতা কখনো তার পড়াশোনার আগ্রহ কমাতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্র।

জানা যায়, যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই মোক্তার হোসেনকে সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিতে হয়। বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা। স্বপ্ন থেমে যায়, কিন্তু দায়িত্ব থামেনি। সংসার চালাতে তিনি ছোট একটি মুদি দোকান শুরু করেন। দুই ভাইকে সাথে নিয়ে আট বোনের বিয়ে দেওয়া, পরিবারের দায়িত্ব পালন করা, অভাবের সাথে লড়াই করা, সবই করতে হয়েছে তাকে।

মুদি দোকান চালানোর পাশাপাশি একসময় আশপাশের দু-একজন শিক্ষার্থীকে পড়ানো শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে এলাকায় তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দোকান ছেড়ে পুরোপুরি প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন।

আরও পড়ুন

তবে এই পথও সহজ ছিল না। তিনি যেহেতু দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, তাই মূলত প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ছিল দরিদ্র পরিবারের। তখনই একটি বাইসাইকেল জোগাড় করেন তিনি। শুরু হয় এক নতুন সংগ্রাম।

মোক্তার হোসেন বলেন, আগে মাসে আট থেকে দশটি বাড়িতে পড়াতে পারলেও বয়সের কারণে এখন আর আগের মতো পারেন না। বর্তমানে পাঁচ-ছয়টি বাড়িতে শিক্ষার্থীদের পড়ান। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী যে যতটুকু দেয়, সেটিই হাসিমুখে গ্রহণ করেন।

মোক্তার হোসেনের স্ত্রী হেলেনা খাতুন বলেন, আমাদের সংসারে অভাব সবসময়ই ছিল। কিন্তু আমার স্বামী কখনো হাল ছাড়েননি। শরীরের কষ্ট, সংসারের চিন্তা সবকিছু নিয়েই তিনি দিনের পর দিন কাজ করে গেছেন। তার এই পরিশ্রম নিয়ে আমি গর্ব করি।

মোক্তার হোসেনের ছাত্রদের একজন বেড়ার মনজুর কাদের মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় মোক্তার স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়েছি। তার কাছ থেকে শুধু পড়াশোনা নয়, পরিশ্রম ও সাহসের শিক্ষাও পেয়েছি। একটি পা, একটি সাইকেল আর অসীম মনোবল নিয়ে তার এই পথচলা আমার কাছে শুধু একজন শিক্ষকের সংগ্রামের গল্প নয়, এটি হার না মানা জীবনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে গ্যাস সংকট, লাকড়ির চুলায় ফিরছে মানুষের রান্নাঘর

এক পা আর একটি বাইসাইকেলে চলছে মোক্তার হোসেনের জীবন যুদ্ধ

নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বগুড়ায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’জনের মৃত্যু

বগুড়ার কামারগাড়ী রেলগেট এলাকায় তীব্র যানজট : জনভোগান্তি চরমে

মাদককারবারি উসনা বেগমের জামিন নামঞ্জুর