সংসদে বিল পাস
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি, ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ এবং নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন।
পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’-কে যুগোপযোগী করেছে। প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত ওই আইনে নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবেলায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ডাটাবেজে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজি বা যেকোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এ ছাড়া আইনে ‘অর্গানাইজড এক্সামিনেশন ক্রাইম’ নামে নতুন অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা, প্রস্তাব দেওয়া কিংবা সংঘবদ্ধভাবে নকল বা প্রতারণার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র বা হলে প্রবেশ করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।
আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে শাস্তি দেওয়ার আগে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসংগতি নিশ্চিত করতে হবে।
পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতা সংস্থার দায়ও নির্ধারণ করা হয়েছে সংশোধিত আইনে। কোনো প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা যোগসাজশে জড়িত হলে অর্থদণ্ড, লাইসেন্স স্থগিত, কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি কিংবা কালো তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
নতুন আইনে তথ্যদাতা বা হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে। অপরাধের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এ সুরক্ষা লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








