ভিডিও বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ০২ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৬ এএম

চার দিনের মাথায় আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান

চার দিনের মাথায় আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান,ছবি: সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চার দিনের মাথায় আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্থান। জানা গেছে, উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে এ ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে; যার মাত্রা ছিল ৫.৫। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আনাদলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৭৫৭) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ২১৬.৭ কিলোমিটার (১৩৪.৬ মাইল) গভীরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বাদাখশান প্রদেশের জুর্ম জেলা।

এর আগে শনিবার (২৭ জুন) একই অঞ্চলে ৬.১ থেকে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার কেন্দ্র ছিল জুর্ম শহরের প্রায় ৪৩-৪৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ১০০-২১৫ কিলোমিটার।

ওই ভূমিকম্পের কম্পন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ছাড়িয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল, এমনকি ভারতের নয়াদিল্লি, দিল্লি-এনসিআর ও জম্মু-কাশ্মীর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল বলে জানায় ভারতের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (এনসিএস)।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায়ও আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসে বলে জানা যায়।ভূতাত্ত্বিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে বাদাখশানে দুই মাত্রার বেশি অন্তত ২৪টি কম্পন রেকর্ড হয়েছে যার মধ্যে একটি ৬.১ মাত্রার, দুটি ৫-৬ মাত্রার এবং বাকিগুলো তুলনামূলক দুর্বল।

আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চল ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকম্প অঞ্চলগুলোর একটি। এই অঞ্চলে সাধারণত গভীর কেন্দ্রের ভূমিকম্প হয়ে থাকে, যা ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা কিছুটা কমালেও তার প্রভাব বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গত এপ্রিলে বাদাখশান প্রদেশে ৫.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টে পূর্ব আফগানিস্তানে অগভীর কেন্দ্রের ৬ মাত্রার এক ভূমিকম্পে পাহাড়ি ঢালের একাধিক গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায় এবং কুনার, নানগারহারসহ কয়েকটি প্রদেশে ২ হাজার ২০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

কয়েক সপ্তাহ পর উত্তর আফগানিস্তানে আরেকটি ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জন নিহত হন। তুলনামূলকভাবে ২০২৩ সালে হেরাত প্রদেশেও শক্তিশালী ভূমিকম্পে শত শত মানুষের মৃত্যু ও হাজারো ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়।

আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, ঘন ঘন কম্পনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চার দিনের মাথায় আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান

নাটকীয়তার পর শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার

নিবন্ধন করেও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বাধা কাটল

ইরানের আমন্ত্রণেও খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না মোদি