কেন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের জন্য টাকা নিচ্ছে মেটা?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রায়ই ‘প্লাস’ সাবস্ক্রিপশন আপগ্রেড করতে বিভিন্ন ধরনের নোটিফিকেশন দিয়ে থাকে। মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন মেটা ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামেও সাবস্ক্রিপশন চালু হয়েছে। ব্যবহারকারীদের এটি ব্যবহারের জন্য অথ্য খরচ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং এআই চ্যাটবটসহ মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স) ব্যবহারকারীদের জন্যও নতুন সাবস্ক্রিপশন চালু করেছে। ইনস্টাগ্রাম প্লাস এবং ফেসবুক প্লাস নামে এ সাবস্ক্রিপশন পরীক্ষামূলক চালু হয়েছে। এছাড়া মেটা আরও উচ্চতর স্তরের সাবস্ক্রিপশনও পরীক্ষা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। জাকারবার্গ অন্যদের তুলনায় এআই জগতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি সেই জায়গাটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
টেক আর্কের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কাওসা এনডিটিভিকে বলেন, মেটা এআই অবকাঠামোতে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের সার্থকতা প্রমাণের জন্য তাদের একটি পূর্বাভাসযোগ্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়ের উৎস প্রয়োজন। শুধু বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে এটি পূরণ করা সম্ভব নয়। এআই আসার পর পর কন্টেন্ট খোঁজ করার এবং ব্যবহারের ধরন যখন বদলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মেটা মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ফলে তাদের বাণিজ্যিক উপস্থিতিও তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নেতিবাচক মনে হতে পারে।
আরও পড়ুনট্রুইস্ট সিকিউরিটিজ বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন থেকে বছরে মেটার ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় হতে পারে। ডয়চে ব্যাংকের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, আগামী বছর সাবস্ক্রিপশন থেকে ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। যদিও অনেক বিশ্লেষক উচ্চাভিলাষী হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
মেটা বলছে, গত বছর সংস্থাটির মোট আয়ের ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ বিজ্ঞাপন থেকে এসেছিল। প্রতিষ্ঠানটি দুই দশকেও বিজ্ঞাপনের বাইরে ব্যবসাকে বিস্তৃত করতে পারেনি। অন্যদিকে গুগল বিজ্ঞপননির্ভর হলেও ১০ বছর আগে বিজ্ঞাপনের বাইরে যা আয় করত, মেটা গত বছরও সেই পরিমাণ আয় করতে পারেনি। এসব কারণে জাকারবার্গ এ ধরনের তৎপরতার দিকে ঝুঁকতে পারেন।
এআই বিশেষজ্ঞ এবং এআইএনসিউর্ডের সিটিও শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনী বলেন, মেটার এ ধরনের পদক্ষেপ মূলত সাময়িক জোড়াতালি দেওয়ার শামিল। তিনি বলেন, মেটার পেইড প্লানগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা এআইতে নিজেদের বিশাল বিনিয়োগ তুলে আনতে চেষ্টা করছে। এজন্য কেবল নিয়মিত ব্যবহারকারীদের আরও বাড়তি কিছু সুবিধা দিয়ে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক








