বগুড়ার সান্তাহারে শিশু রাকা হত্যাকান্ড বেরিয়ে আসছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য নারীর দায় স্বীকার
স্টাফ রিপোর্টার : বেরিয়ে আসছে বগুড়ার সান্তাহারে আলোচিত শিশু রাকিয়া আক্তার রাকা হত্যাকান্ডের আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোনার দুল হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সাথে বিরোধও এই হত্যাকান্ডের আরো একটি কারণ।
ইতোমধ্যে এই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে মামলার ২ নম্বর আসামি বন্যা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল শনিবার বগুড়ায় আদমদিঘী সিনিয়র জুডিশিয়ার ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে বিচারক তার দেয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
আদমদিঘী থানার ওসি মো: কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত শিশু রাকার পরিবারের সাথে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বন্যা বেগম তার তার পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল । তার পরও সাড়ে ৬ বছর বয়সী রাকা আসামি বন্যা বেগমের বাড়িতে যেত ও তার মেয়ে ফাতেমার (১২) এর সাথে খেলাধুলা করতো। খেলাধুলার এক পর্যায়ে রাকাকে কয়েকদিন আগে মারধর করে ফাতেমা। মার খেয়ে রাকামনি বাসায় গিয়ে তার দাদীকে বিষযটি বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন।
এক পর্যায়ে তার দাদী ফাতেমাকে মারধোর করেন। কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ফাতেমার মা বন্যা বেগম ও তার পরিবার । তারা পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে। এরমধ্যে গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু রাকামনিকে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে বন্যা বেগম ও তার পরিবার। জানান, আসামি বন্যা বেগম স্বীকার করে যে, সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেববাজারে তার বাড়িতে ব্রয়লার মুরগীর একটি ছোট সেড রয়েছে।
আরও পড়ুনসেখানে রাকা যখন মুরগী দেখছিল তখন পিছন থেকে কাপড়ের রশি দিয়ে রাকার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। বন্যা বেগম দাবি করেন যে, তিনি নিজেই রাকাকে হত্যা করেছেন। পরে তার লাশ একটি প্লাসটিক বস্তায় ভরে এরপর কাগজপত্র দিয়ে ঢেকে শয়ন কক্ষের পাশে লুকিয়ে রাখা হয়। ওসি আরো বলেন, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৪ আসামিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে বন্যা বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেনও রয়েছে।
নিহত রাকা সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেব বাজারের অটোরিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রী রায়হান আলীর মেয়ে। তিনি আরো বলেন, রাকার সোনার দুটি কানের দুলও খুলে নেয়া হয়। এ বিষয়েও জোড়ালো তদন্ত চলছে।
এ হত্যার ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকার বাবা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদি হয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম ও বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেফতার করেছে।
মন্তব্য করুন


_medium_1781451369.jpg)





