বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ির রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বিভ্রান্তি দূরীকরণে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার : সম্প্রতি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি নশিপুর ইউপি অফিস থেকে জিয়া বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ইটপাতা এবং ইট তুলে নিয়ে যাওয়া এবং নির্মাণে বিলম্বের প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা
তুলে ধরে সেই সাথে এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে তা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। শনিবারর ওই রাস্তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মো. শামীম রেজা শামীম সংবাদ সম্মেলন করেন। বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে শামীম রেজা লিখিত বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বগুড়ার আওতায় গাবতলী উপজেলার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ ও পোস্ট দিয়েছেন অনেকেই যা মোটেও সঠিক নয়।
লিখিত বক্তব্যে শামীম রেজা জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে গাবতলী উপজেলাধীন নশিপুর ইউপি অফিস থেকে জিয়া বাড়ি সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ৫০০ মিটার নতুন কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের দায়িত্ব পায় তার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি এই সংবাদের সাথে সরকারের প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামও জড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাজের বিলম্ব ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে ঠিকাদার শামীম জানান, প্রকল্প নির্দেশিত গ্রামীণ মেঠো পথটির দুই পাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর-বাড়ি, শৌচাগার, গোয়ালঘর ও বিভিন্ন বাগান থাকায় সেগুলো অপসারণ করতেই স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে প্রায় ২-৩ মাস সময় লেগেছে। এছাড়া রাস্তাটির প্রায় ৩০ শতাংশ জনগণের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভেতরে থাকায় এবং খাস জমিগুলো স্থানীয়দের অবৈধ দখলে থাকায় সীমানা নিয়ে চরম বিরোধ দেখা দেয়। বর্তমানেও দুইজন স্থানীয় অধিবাসীর লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের নিকট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা কাজের প্রধান অন্তরায়।
আরও পড়ুনএলজিইডির জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইনি এখতিয়ার না থাকায় এই সামাজিক বিরোধ নিরসনে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। ভৌগোলিক ও কারিগরি প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সড়কটি পূর্বের আরসিসি রাস্তা থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট নিচু হওয়ায় সেখানে পর্যাপ্ত নতুন মাটি ভরাট করতে হয়েছে।
প্রকৌশলগত নিয়ম অনুযায়ী নতুন মাটি ফেলে তা টেকসই করার জন্য কমপক্ষে ৩-৪ মাস ফেলে রাখতে হয় এবং একটি বর্ষা মৌসুমের অপেক্ষা করতে হয়। তাছাড়া পাশেই একটি প্রবাহমান খাল থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেক জায়গার মাটি খালের মধ্যে ধসে পড়েছে, যা প্রাক্কলিত রোড প্রটেক্টিভ ওয়ার্ক বাস্তবায়নে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বাজেটের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ খরচ করলেও খালের পাশের এই নরম মাটিতে রাস্তাটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট টেকনিক্যাল সংশয় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিভ্রান্তিকর তথ্য না দিয়ে এবং সব খানে প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়নও সমবায় মন্ত্রীর নাম টেনে না আনার আহবান জানান। সেই সাথে সুষ্ঠুভাবে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্তব্য করুন

_medium_1781359843.jpg)




_medium_1781356463.jpg)


