ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার ছাত্রশিবির নেতা জিসান বহিষ্কার
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহম্মেদ প্রধানকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (১৩ জুন) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় জিসানের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস রিলিজে দাবি করা হয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং এক নারীর ধর্ষণের অভিযোগের পরিণতি এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
আরও পড়ুন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন জিসানের চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হন। এরপর জেলা পুলিশের একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার একইভাবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করার আশ্বাস দেন। কিন্তু বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই আত্মগোপনে যান এবং নিজের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় জিডি করান।
এরই মধ্যে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন রোড এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে লাকসাম থানা পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়ার পর জিসান দাবি করেন, তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিসানকে উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে পুরো নিখোঁজ ও মামলা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, উদ্ধার হওয়ার পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত জিসানের সঙ্গে পরিবারের সদস্য কিংবা সংগঠনের প্রতিনিধিদের দেখা করতে দেয়া হয়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ভুক্তভোগী নারীর পরিবারকেও পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, জিসানকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী জানান, নির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলায় জিসান আহম্মেদ প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








