ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, আপনি প্রস্তুত তো
পুরো পৃথিবী রাঙা হবে নতুন রঙে। খবরের শিরোনাম হবে কার বাড়িতে উড়ল কত বড় পতাকা আর কোন ভক্তই বা কি কান্ড ঘটিয়ে বসলেন। এইতো আর মাত্র কিছু ক্ষণের অপেক্ষা এরপর আজ থেকে পর্দা উঠবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের। পুরো পৃথিবী মাতোয়ারা হবে সেই লড়াইয়ে। প্রতি চার বছর পর পর আয়োজিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ যে মাতিয়ে রাখে পুরো পৃথিবীকেই। ধরনীর বুকে এখন এক অদ্ভুত সময়। একদিকে যুদ্ধের দাবানল জ্বলছে,আবার অর্থনৈতিক চাপে সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব মিলিয়ে পৃথিবী যখন পার করছে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। অনেক মানুষের কাছে সুখ যখন কেবল বিলাসিতা ঠিক তখনই মানুষের মনের খানিকটা স্বস্তি দিতে বিনোদনের এক উপলক্ষ হয়ে ধরা দিতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফুটবল বিশ্বকাপ তো কেবল একটা খেলার আয়োজন। এর আর বিশেষত্ব কি? এই যখন প্রশ্ন তখন এক বাক্যে উত্তর হিসাবে আপনি দেখিয়ে দিতে পারেন কিছু দিন আগেই যে ইরান - আমেরিকা যুদ্ধে পৃথিবী টালমাটাল। সেই আমেরিকার মাটিতেই খেলতে যাচ্ছে ইরান। আর তাই হয়তো ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয় দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। এই বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য খেলার মাঠ ছাড়িয়েও উত্তাপ ছড়ায় রাজনীতির মাঠ থেকে শুরু করে রণাঙ্গনেও।
আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপটা খানিকটা বিরলই বলা যায়। কারণ আগে যেখানে লড়াই হতো ৩২ দলের মাঝে এবার সেখানে দলের সংখ্যা বেড়ে ৪৮। ১২টি গ্রুপ, আর প্রতি গ্রুপে চারটি দল লড়বে। দলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যাও। ১৬ শহরের ১৬ ভেন্যুতে এবার আয়োজিত হবে মোট ১০৪ টি ম্যাচ। ১১ জুন থেকে মাঠে গড়িয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই লড়াইয়ের আসরের সমাপ্তি হবে ১৯ জুলাই ২০২৬ এ। এবারের বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসাবে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। এছাড়াও বিশ্বকাপে হট ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে এমবাপ্পের ফ্রান্স,রোনালদোর পর্তুগাল কিংবা স্পেনের মতো দলগুলোকে।
এবারের বিশ্বকাপটা আরো একটা কারণে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ফুটবল বিশ্বকাপের দুই মহারথী আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। ফুটবলের এই দুই মহাকাব্যের বিদায় দিতে গিয়ে হয়তো চোখের কোণে পানি জমা হতে পারে ফুটবল সমর্থকদের। সেই সাথে ইনজুরির সমস্যায় ভুগতে থাকা ব্রাজিল তারকা নেইমারের জন্যও হতে পারে শেষ বারের জন্য বিশ্বকাপে লড়াইয়ে নামা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আয়োজন করবে ডোলান্ড ট্রাম্পের দেশ আমেরিকা। প্রযুক্তির নানা ছোঁয়ার সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপে রয়েছে নতুন কিছু নিয়ম। এই যেমন মুখে হাত দিয়ে কথা বললেই মিলবে সরাসরি লাল কার্ডের দেখা। এছাড়াও ইনজুরির সময়ে গোলরক্ষককে কোন পরামর্শ দিতে পারবেন না কোচ। এতো গেল নিয়মের কথা বিশ্বকাপে মিলবে নানা নতুন প্রযুক্তির দেখা। ৫০০ হার্জের মোশন সেন্সর চিপ সম্বলিত এবারের বিশ্বকাপের বলের নাম এডিডাস ট্রাইওনডা। যেই বলটাকে আবার দিতে হবে মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো চার্জও।
বিশ্বকাপের বলের নামের সঙ্গেও রয়েছে মজার রহস্য। ট্রাই শব্দের অর্থ তিন। আর ওনডা শব্দের মানে ঢেউ। এক শব্দে বললে তিনটি ঢেউ। এছাড়াও এবারের বিশ্বকাপের লোগও জন্ম দিয়েছে ইতিহাসের। যেখানে বড় করে লেখা রয়েছে ২৬, আর বিশ্বকাপের ট্রফি। আর সেখানেই ইতিহাস জন্ম নিয়েছে। এটাই ইতিহাসের প্রথম ট্রফি যেখানে দেখা মিলেছে ফুটবল বিশ্বকাপের। কেবল লোগই নয় বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম ইসটাডিও এজটেকাও জন্ম দেবে ইতিহাস। মেস্কিকোর এই স্টেডিয়ামে ভিন্ন তিনটি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের রেকর্ড হতে চলেছে। ১৯৭০, ১৯৮৬ আর ২০২৬। এছাড়াও এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিনটি দেশের রয়েছে তিনটি আলাদা মস্কট। কানাডার প্রতিনিধিত্ব করবে একটা হরিণ জাতীয় প্রাণী যার নাম রাখা হয়েছে মাপলে। আর মেক্সিকোর একটি চিতা বাঘ সদৃশ যেটাকে ডাকা হচ্ছে জায়ু নামে। আর আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করবে ক্লুট নামক ঈগল সদৃশ মাস্কট।
বিশ্বকাপ এলেই তো পুরো পৃথিবীর মানুষ নানা পাওয়া না পাওয়ার হিসাব চুকিয়ে- নানা সুখ দুঃখের মাঝেও একটু খানি বিনোদন খুঁজে নেয়। প্রিয় মানুষগুলোই হয়ে ওঠে মধুর প্রতিপক্ষ। একজন আরেকজনের সঙ্গে চলে নানা খুনসুটি। আর পছন্দের এই দলের সমর্থনেও গড়ে ওঠে বাণিজ্য। জার্সি পতাকা থেকে শুরু করে নানা সামগ্রী বিক্রিতেও ধুম নামে। যদিও এবার বাংলাদেশী দর্শকদের জন্য খানিকটা হতাশা হয়ে ধরা দিতেই পারে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময়। বিশ্বকাপের বেশির ভাগ ম্যাচই এবার অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়। ফলে গভীর রাতে মধুর ঘুৃম বিসর্জন দিয়ে খেলা দেখাটা খানিকটা কষ্ট বাড়িয়েই দিবে। সে যতই হতাশার গল্প থাকুক না কেন বিশ্বকাপ এলেই অবধারিত ভাবে বাঙালি ফুটবলপ্রেমী জাতি ঠিকই মেতে উঠবে সে কথা বলাই যাই। আর বিশ্বকাপ ফুটবলকেই ঘিরেই তো কত জন কেবল একই দলের সমর্থক তাই হয়ে ওঠে অতি আপন। আবার প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে নানা খুনসুটিই তো বাড়িয়ে তোলে সম্পর্কের গভীরতা। বাংলাদেশের মানুষের ফুটবল উন্মাদনার কথা তো জানে পুরো বিশ্ববাসীই। বিশ্ব গণমাধ্যমে বিস্ময়ের চোখেই দেখা হয় এই ফুটবলীয় উন্মাদনাকে।
আরও পড়ুন
লেখক :
আরাফাত নাফিজ
শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন
বিশ্ববিদ্যালয়-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








