লালমনিরহাটের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর বেহাল দশা, দুর্ভোগে ক্রেতা-বিক্রেতা
লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চলছে ভাড়াটে অফিসার দিয়ে। শুধু তাই নয় কর আদায়ে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল সম্পাদনও করেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারগণ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্ট্রার পদই বর্তমানে শূন্য অবস্থায় রয়েছে। অন্য জেলার ভাড়াটে সাব-রেজিস্ট্রাররা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সপ্তাহে পাঁচদিন কর্মদিবস হলেও কর্মকর্তা সংকটে এক-দু’দিন সচল থাকছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসগুলো।
জেলা-রেজিস্ট্রি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রামে গত ২০১৭ সালে রতন অধিকারী নামে একজন কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর থেকে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। প্রায় নয় বছর ধরে এ অফিস চলছে ভাড়াটে অফিসার দিয়ে। বর্তমানে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রাশেদুজ্জামান সপ্তাহে একদিন অফিস করছেন এ উপজেলায়। তিনি সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবেও পালন করছেন অতিরিক্ত দায়িত্ব। এছাড়াও পদায়নকৃত রাজারহাটে দায়িত্বে আছেন তিনি।
সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার আহসান হাবিব ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল বদলি হলে এ পদটি শূন্য হয়। একইদিনে বদলি করা হয় কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার সাব-রেজিস্টার রাশেদুজ্জামানকে। সেই থেকে এ দুই কার্যালয়ে নেই কোনো কর্মকর্তা। চলতি বছরের ৯ ফ্রেব্রুয়ারি বিসিএস ক্যাডারে নির্বাচিত হয়ে চলে যান হাতীবান্ধা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আরিফ ইশতিয়াক।
সেই থেকে কার্যালয়টির সাব-রেজিস্টার পদটি শূন্য। একমাত্র আদিতমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার শিউলী খাতুন পদায়ন থাকলেও রয়েছেন দুই মাসের প্রশিক্ষণে। এভাবে কর্মকর্তা শূন্য রয়েছে জেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার কামরুন নাহার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন আদিতমারী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে, নীলফামারীর ডোমারের সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম রয়েছেন হাতীবান্ধা অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে।
আরও পড়ুনকালীগঞ্জের তুষভান্ডার অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মন্ডল। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসে তারা সপ্তাহে মাত্র এক/দুদিন সময় দিচ্ছেন। ফলে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। জমি ক্রেতা সাথি বেগম বলেন, কয়েকদিন এসে ফিরে গেছি সাব-রেজিস্ট্রার নেই। তিন মাস ধরে দলিল করতে পারছি না। অনেক ভোগান্তির পরে আজ সাব-রেজিস্টার ও দাতা দু’জনকে পেয়েছি।
আদিতমারী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ের বড় মাধ্যম সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। সেখানে নেই কর্মকর্তা। দূরের জেলা থেকে যারা অতিরিক্ত দায়িত্বে আসেন তারাও সুষ্ঠভাবে সেবা দিতে পারছেন না। পাঁচদিনের কাজ একদিনে করা যথেষ্ট কষ্টের। জনভোগান্তিও বাড়ছে।
এবিষয়ে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনভোগান্তি লাঘবে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানো হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকলে অফিসের সব কার্যক্রম গতিহীন হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে, পদায়ন দিলে এ জনদুর্ভোগ কমে যাবে।
মন্তব্য করুন







