জয়পুরহাটে এবারও চামড়ার বাজারে ধস, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কিনলেন ৩০০ টাকায়, আড়তে বিক্রি ১০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটে এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস্ নেমেছে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন ৩০০ টাকায়, আড়তে সেই চামড়া বিক্রি করতে হলো ১০০ টাকায়। এতে গাড়ি ভাড়াও তুলতে পারেননি না মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। অনেক জায়গায় দাম কম হওয়ায় অবহেলায় মাটিতে লুটাচ্ছে চামড়া।
মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সরকারি বেঁধে দেওয়া দরে না কিনে সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছেমতো চামড়া কিনছেন আড়তদাররা। সাধারণত ১২ থেকে ১৬ বর্গফুটের চামড়াকে ছোট আকার হিসেবে ধরা হয়। ১৭ থেকে ২২ বর্গফুট মাঝারি এবং ২৩ বর্গফুটের বেশি হলে সেটিকে বড় চামড়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জানা গেছে, এবার বাজারে প্রতিটি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। ছাগলের চামড়া কেনার আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। জয়পুরহাট সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর গ্রামের আতাউর রহমান, কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের গোলাম রব্বানী, ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামের হানিফ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কোরবানিদাতারা জানান, গত বছরের মতোই এবারও চামড়ার দাম নেই।
শহরের নতুনহাট এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন, জামালগঞ্জ বাজারের মেহেদী হাসানসহ মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির চামড়ার আকস্মিক দরপতনে দিশেহারা তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ফড়িয়া জানান, সীমান্তে কড়াকড়ি না থাকলে তারা ওপারে চামড়া পাঠিয়ে কিছু লাভের মুখ দেখতেন।
এবার সেটিও হচ্ছে না। পুঁজি সংকট, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা ইত্যাদি কারণে চামড়ার দাম পড়ে গেছে। জয়পুরহাট শহরের চামড়া ব্যবসায়ী বাবু হোসেন, গোলাজার হোসেন জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। হাতে টাকা না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে চামড়া কিনতে পারছেন না।
আরও পড়ুনফলে বাজারে চাহিদা কম থাকায় চামড়ার মূল্য স্বাভাবিক কারণে কমে গেছে। অন্যদিকে, চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে। এতে দেশের স্থানীয় বাজারে আপাতত চামড়া কেনাবেচা করতে হচ্ছে।
কাঙ্খিত দাম না পেয়ে চামড়া বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার পুরানাপৈল গ্রামের লিটন রহমান বলেন, গতবছরের মতো এবারও পানির দরে চামড়া বিক্রি করতে হলো। জয়পুরহাট পৌর শহরের শাপলা নগর মহল্লার আলাউদ্দিন মন্ডল বলেন, এক লাখ ৭০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করতে হলো ৩৫০ টাকা।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল লতিফুল বারী জানান, তাদের অধীনে সীমান্ত এলাকা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২২ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতারে ঘেরা। বাকি ১৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার নেই। চোরাকারবারিরা মূলত জায়গাটিকেই তাদের পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে এই জায়গাগুলো সব সময় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। চামড়া পাচার রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন







