সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এক নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন নির্মাণশ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ মধ্যহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত আহসানুল মিয়া (১৬) উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলী রহমানের ছেলে। আহসানুল এবার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন।
মৃতের চাচা হাসান ইমাম জানান, নিহত আহসানুলের বাবা নেই। পরিবারের সহযোগিতার জন্য অবসরে বিভিন্ন টুকিটাকি কাজ করত। বুধবার তার পরীক্ষা শেষ হয়। পরদিনই নির্মাণকাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারায়। ঘটনার পর থেকে তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আহসানুল বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি তিনতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের ১১ কেভি লাইনের সংস্পর্শে এলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মোহাম্মদ আলাউল হক সরকার বলেন, পল্লী বিদ্যুতের ১১ কেভি লাইনের পাশেই ভবনটির নির্মাণকাজ চলছিল। কিন্তু কাজ শুরুর আগে লাইন বন্ধ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। ভবন নির্মাণের বিষয়েও আমাদের অবগত করা হয়নি।
আরও পড়ুন
তবে ভবনের মালিক সাজু আহমেদ দাবি করেন, চার মাস আগে থেকেই বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলেটা মেধাবী ছিল। সব বিষয়ের তাত্ত্বিক পরীক্ষা দেওয়া শেষ, শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষাটা বাকি ছিল। যেহেতু সে আর বেঁচে নেই, এখন অসমাপ্ত পরীক্ষার বিষয়ে করনীয় কি হবে, তা জানতে বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নেওয়ার আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।