মাদকের টাকা জোগাতে বারিধারার গির্জায় লুট, গ্রেফতার ৩
রাজধানীর বারিধারা এলাকায় মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাতে গির্জার ফাদারের হাত-পা বেঁধে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। নগদ অর্থ ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের পর তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (১ মে) দুপুরে ভাটারা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ।
গ্রেফতাররা হলেন- আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু, মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান ও আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির।
সংবাদ সম্মেলনে তানভীর আহমেদ বলেন, গত ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাত আড়াইটার দিকে মুখে মাস্ক পরিহিত অজ্ঞাতনামা দুজন বারিধারা এলাকার ডি মাজেন্ড গির্জার কম্পাউন্ডের দেওয়াল টপকে ভিতরে ঢুকে। তারা প্রথমে গির্জার কর্মচারীদের কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তারা গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গমেজের অফিস রুমের গ্রিল কেটে ভিতরে ঢুকে ফাদারের হাত-পা ও মুখ বেঁধে অফিস রুমের আলমারী খুলে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি পাসপোর্ট ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুণ্ঠন করে। এরপর তারা দেওয়াল টপকে বের হয়ে ব্যাটারী চালিত রিকশায় করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভাটারা থানা পুলিশ অটো রিকশার সূত্র ধরে ভাটারা থানাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক হাজার রিকশা ও চালকদের তথ্য সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করে। এরপর আক্তার হোসেন মনা নামে এক রিকশাচালককে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের ডিসি বলেন, পরবর্তীতে ভাটারা থানার আভিযানিক টিম মুগদা থানা এলাকা থেকে আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির নামের ওই ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এসময় তার হেফাজতে থাকা দস্যুতার ঘটনায় ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও লুণ্ঠিত নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজানকে লক্ষীপুর জেলার রামগতির চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত নগদ ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দস্যুতার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুকে রাজধানীর খিলক্ষেত আমতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে একটি পাসপোর্ট, একটি জাতীয় পরিচয় পত্রসহ লুণ্ঠিত নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ডিসি বলেন, গ্রেফতারদের মধ্যে আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুর বিরুদ্ধে রাজধানী খিলক্ষেতসহ দেশের বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে এবং মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজানের বিরুদ্ধে কুমিল্লার লালমাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা ও আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনিরের বিরুদ্ধে চট্রগ্রামের হালিশহর থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতার আসামিরা মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। মূলত মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকা সংগ্রহের জন্য তারা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1777637720.jpg)




