নোয়াখালীর আলোচিত স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যায় গৃহশিক্ষক রনির মৃত্যুদণ্ড
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনি (৩৩) নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মী নারায়ণপুর এলাকার লাতু কাউন্সিল বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী জানান, স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলায় আদালত আসামি সাবেক গৃহশিক্ষক রনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
আরও পড়ুননিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন তিনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে দুপুরে বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে এবং বিষয়টি গোপন করতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন অতিদাকে। পরে ঘটনাটি ভিন্ন রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ এবং তার পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








