আমি সবসময় তিন নম্বরে ব্যাট করতে পছন্দ করি: নাজমুল হোসেন শান্ত
টানা ১৩ ইনিংসে ফিফটির দেখা না পাওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে চেনা ছন্দে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করে রানখরা কাটানোর পর চট্টগ্রামের অলিখিত ফাইনালে চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দাপট দেখিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এই দুই ইনিংসে কখনো চাপের মুখে ধৈর্য ধরা, আবার কখনো আক্রমণাত্মক মেজাজে প্রতিপক্ষের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের অফ-ফর্ম কাটিয়ে ওঠা, অধিনায়কত্ব ছাড়ার প্রভাবসহ ক্রিকেটের নানা বিষয় নিয়ে 'দ্য ডেইলি স্টার'-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন টেস্ট অধিনায়ক।
সামগ্রিকভাবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের কথা ভাবলে, দলের এবং আপনার নিজের পারফরম্যান্স কতটা ইতিবাচক ছিল? নাজমুল হোসেন শান্ত: দল হিসেবে আমরা ভালো খেলেছি, এটা আমাদের জন্য স্বস্তির। গত তিনটি সিরিজ ধরেই আমরা ছন্দ ধরে রেখেছি, যা সামনের দিনগুলোর জন্য খুব জরুরি। দলের বর্তমান পরিবেশ ও সবার সঙ্গে বন্ধন চমৎকার, প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে অবদান রাখার চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগতভাবে বললে, এই দুটি ইনিংস আমার জন্য খুব দরকার ছিল। লম্বা সময় বড় রান পাচ্ছিলাম না, তাই নিজের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এই সিরিজটি আমার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অফ-ফর্মের সেই কঠিন সময়ে কার কাছ থেকে পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা পেয়েছেন? শান্ত: আসলে আমি গত কয়েক মাস ধরে নিজের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করছিলাম। ব্যাটিংয়ের উন্নতির জন্য আমি সবসময় সোহেল [ইসলাম] স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করি। গত কয়েক মাস উনার তত্ত্বাবধানে আমি ব্যাটিংয়ের কারিগরি ও মানসিক—উভয় দিক নিয়ে নিবিড় কাজ করেছি। সেই কঠোর পরিশ্রমের ফল হাতে আসায় এখন আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
ওই সময়ে বিশেষ করে কোন বিষয়গুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করছিলেন? শান্ত: তেমন বড় কোনো পরিবর্তন ছিল না। আমি মূলত কারিগরি বা টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর জোর দিচ্ছিলাম। ব্যাটিংয়ের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আমি কিছুটা ভুগছিলাম, সেটা নিয়েই কাজ করেছি। মানসিকভাবে আমি সবসময়ই ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি। রান না পেলেও আমার কাজের ধরনে কোনো খামতি ছিল না। তবে হ্যাঁ, রান না এলে কিছুটা অস্বস্তি তো কাজ করেই। আমি মনে করি সেই পরিস্থিতি আমি বেশ ভালোভাবেই সামলে নিয়েছি।
অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি আপনার ব্যাটিংয়ে কোনো বাড়তি সুবিধা দিয়েছে? শান্ত: সত্যি বলতে, আমি অধিনায়ক থাকি বা না থাকি—তা নিয়ে আমার খুব একটা মাথাব্যথা নেই। দলের হয়ে রান করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনতামিম ইকবালের সঙ্গেও আপনাকে অনুশীলন করতে দেখা গেছে। সেই সেশনগুলো আপনার খেলায় কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে? শান্ত: বিপিএলের আগে আমি একটি বিশেষ শট নিয়ে কাজ করছিলাম। আমার মনে হয়েছে তামিম ভাই এই বিষয়ে আমাকে সবচেয়ে ভালো সাহায্য করতে পারবেন, কারণ তার ক্যারিয়ারে তিনি এই শটটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে খেলেছেন। উনার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টি বুঝতেই আমি তার কাছে গিয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং ইনডোরে আমার সঙ্গে দুই দিন সময় কাটিয়েছেন। এতে আমি ভীষণ উপকৃত হয়েছি এবং এখনও সেই অনুযায়ী নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছি।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিটনেসজনিত কারণে (ক্র্যাম্প) মাঠ ছাড়তে হওয়াটা কি আক্ষেপের ছিল? শান্ত: অবশ্যই এটি আক্ষেপের। কারণ আমার উচিত ছিল খেলাটি শেষ করে আসা, যাতে দল সহজেই জয় পায়। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের উচিত নয় এমন কিছু নিয়ে অভিযোগ করা যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সেদিন প্রচণ্ড গরম ছিল। সিরিজের আগে আমাদের বেশ ভালো একটি ফিটনেস ক্যাম্প হলেও আমার দৌড়ানোর ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকায় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে।
আমাদের পেস ইউনিট এখন কতটা পরিণত বলে আপনার মনে হয়? শান্ত: আমাদের প্রতিটি পেস বোলারই অসাধারণ। এই তীব্র গরমে যেভাবে তারা বোলিং করেছে, তার পুরো কৃতিত্বই তাদের। এই সিরিজে আমাদের জয়ের পেছনে পেসারদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য।
গত দুই ম্যাচে আপনি চার নম্বরে ব্যাটিং করেছেন। সামনে বিশ্বকাপ, সেখানে আপনার ব্যাটিং পজিশন নিয়ে পরিকল্পনা কী? শান্ত: এই সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি কোচ, ম্যানেজমেন্ট এবং অধিনায়কের। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং অতীতে সেখানে ভালো সাফল্যও পেয়েছি। তবে দলের প্রয়োজনে টিম ম্যানেজমেন্ট যেখানেই খেলতে বলুক না কেন, আমি নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








