ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ভোলা সদর উপজেলায় বসতঘরে ঢুকে নাছিমা বেগম (৩৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা এবং তার ৭ বছরের সন্তান আবিরকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জিহাদকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত জিহাদ ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সর্দার বাড়ির মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।
রাতে জিহাদকে ওই একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নাছিমা বেগমের চাচা মো. নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, এ ঘটনার পরপরই ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি মো. জিহাদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন জিহাদ।
আরও পড়ুনপুলিশ সুপার বলেন, জিহাদের দেওয়া তথ্য ও তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, আসামির ব্যবহৃত কাপড় এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাছিমা বেগম প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কাজের সুবাদে বেশ কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন নাছিমা বেগমের স্বামী আল আমিন। স্বামী প্রবাসে থাকায় ছেলে আবিরকে নিয়ে নিজেদের নির্মাণাধীন বসতঘরে বসবাস করে আসছিলেন নাছিমা বেগম। শুক্রবার মধ্যরাতে ঘরে মা-ছেলে গভীর ঘুমে থাকাকালীন ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাছিমা বেগম ও তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন জাহিদ। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাছিমা বেগম। আহত হন তার ছেলে আবির। পরবর্তীতে শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে আশপাশের লোকজন তাদের সাড়াশব্দ না পেয়ে তাদের ঘরে ঢুকে দেখেন নাছিমা বেগমের মরদেহ পড়ে আছে এবং শিশু আবির আহত অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে লোকজন এগিয়ে গিয়ে আহত আবিরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান এবং শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1776607772.jpg)


_medium_1776605893.jpg)

_medium_1776604104.jpg)


