বড়পর্দায় বিশ্বকাপ দেখানোর ভেন্যুকে কেন্দ্র করে হল সংসদ ও ছাত্রদলের দ্বন্দ্ব
ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠে আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা বড়পর্দায় দেখানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে হল সংসদ ও ছাত্রদল। মাঠ ভাড়া নিয়ে কে আয়োজন করবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন। হল ছাত্রদলের দাবি, তাদের অনুমতি দিয়েছে প্রক্টর। অন্যদিকে হল সংসদ বলছে, প্রক্টর অনুমতি দেয় না। দেয় নিরাপত্তা পাশ। হল সংসদ আয়োজন করতে চাইলে ওখানে অন্য কারো আয়োজন করার সুযোগ নেই- দাবি হল সংসদ নেতাদের। অন্যদিকে হল প্রশাসন বলছে, ছাত্রসংসদ প্রশাসনের অংশ হিসেবে মাঠ ভাড়া নেওয়ার অধিকার রাখে না। হল সংসদের সঙ্গে ছাত্রদলের এমন দ্বন্দ্ব সামনে আসে যখন ছাত্রদল নেতা মনসুর রাফি বিষয়টা নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ফেসবুকে ওই ছাত্রদল নেতা পোস্ট দিলে এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচান। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বিষয়টাও আলোচনায় আসে।
জানা যায়, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হল সংসদের অভ্যন্তরীণ ফেসবুকে গ্রুপে ভিপি সাদিক হোসেন ঘোষণা দেন যে, হল সংসদের তত্ত্বাবধানে মুহসীন হল মাঠে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন হবে। এর পর গত ১৭ এপ্রিল 'ছাত্রদল খেলা প্রদর্শনীর আয়োজন করবে' এমন ঘোষণা দিয়ে হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনসুর আহমেদ রাফি লেখেন, ইতোমধ্যে প্রক্টর মহোদয়ের অনুমতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর জন্য ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, তাদের জন্য একাধিক জার্সি ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অন্তত ১০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। হলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে এমন পোস্টের পর আবার গতকাল ছাত্রদলের এ নেতা নিজের টাইমলাইনে হুঁশিয়ারি দিয়ে করে লেখেন, মুহসীন হল ছাত্রদলের সহযোগিতায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ হল মাঠে বড়পর্দায় প্রদর্শন করা হবে। যেকোনো ধরনের মবতন্ত্র ও জোরজবরদস্তি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে চলবে না।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মনসুর রাফি বলেন, 'হল মাঠে ফুটবল ম্যাচ দেখানোর ব্যাপারটা নিয়ে অনেক আগেই আমরা প্রক্টর বরাবর আবেদন করেছিলাম। ইতোমধ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অনুমোদন পেয়েছি। অনুমোদন না পেয়েই হল সংসদের ভিপি ঘোষণা দেয় যে, তারা খেলা দেখাবে, যেটা কিন্তু তারা করতে পারে না।'
প্রক্টরের বরাবর অনুমতি কবে চাওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'একটা সম্ভবত মার্চ মাসের শেষের দিকে।' হল প্রশাসন থেকে কিছু বলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'হল সংসদের চাপের কারণে হল প্রশাসন এখনও আমাদের কিছু বলে নাই।'
আয়োজনকে কেন্দ্র করে বৃত্তি প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এখান থেকে যেহেতু আমরা ভাড়া বাবদ বেশি কিছু টাকা পাব এটাতো আমরা নিজেদের জন্য রাখতে পারি না। এটা আমরা শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করব। সেটার একটা অংশ হতে পারে বৃত্তি প্রদান। অর্জিত টাকা আমরা কীভাবে ব্যয় করব এটা নিয়ে আমরা এখনও হল প্রশাসনের সাথে বসি নাই।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল সংসদের ভিপি সাদিক হোসেন বলেন, 'হল সংসদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, আমরা হল মাঠে খেলা দেখাব। এটা আমাদের অন্যান্য রেগুলার আয়োজনের মধ্যে একটা। আমাদের রেগুলার আয়োজনের ক্ষেত্রেতো কোনোভাবেই ছাড় দিতে পারি না। হল সংসদ যখন আয়োজন করতে চাইব ওখানে তো অন্য কাউকে প্লেস দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।'
আরও পড়ুনতিনি বলেন, 'সেপ্টেম্বর থেকে আমরা এটা নিয়ে প্রভোস্ট স্যারের সাথে আলাপ করেছি। প্রভোস্ট স্যারও রাজি হয়েছে। যে ঠিক আছে আমাদের হলের সংস্কার করার দরকার আছে। প্লাস আমাদের হলে এসি লাগানো থেকে শুরু করে অসংখ্য কাজ আছে যেগুলো আসলে ফান্ডের অভাবে হচ্ছে না। এই কাজগুলো আমরা ওখান থেকে আনজাম দিতে চাইছি।'
তিনি বলেন, 'যখন হল সংসদ এক্সিস্ট করে হল মাঠ প্রশাসনেরও তত্ত্বাবধানে থাকে না। এটা গণতান্ত্রিকভাবেই হলের যে মাঠ এটা হল সংসদের তত্ত্বাবধানে থাকবে।'
তিনি আরো বলেন, 'প্রক্টর ওদের দিয়েছে নিরাপত্তা পাশ। যে কেউ গেলে তাকে নিরাপত্তা পাশ দিয়ে দেওয়া হয়। কাউকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটার অনুমতি দিবে হল প্রশাসন। তারা এইটা ভাড়া দিয়ে নিজেদের দল থেকে বৃত্তি দিতে চাচ্ছে ১০০ জনকে। ১০০ জনকে জার্সি দিবে এটা তারা চিন্তা করতেছে। আবার বাকি টাকা হয়ত তারা তাদের পকেটে ভরবে। এরকম চিন্তাও হয়ত তাদের আছে।'
হল সংসদ-ছাত্রদলের দ্বন্দ্ব ইস্যুতে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রভোস্ট ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'হল সংসদের সঙ্গে ছাত্রদলের কি হয়েছে সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমার দেখার বিষয় হলো আমার প্রশাসন। প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী চলবে। যারা আগে আবেদন করে আমরা ফাঁকা দেখলে তাকে দিয়ে দেই। কিছু শিক্ষার্থী আগে আবেদন করেছে। তাদের বিষেয়টা অগ্রাধিকার থাকবে। এখানে ভাড়ার একটা বিষয় আছেতো। যেখানে ভাড়া বেশি পাওয়া যাবে আমরা সেখানে দিব।'
হল সংসদের ভাড়া নেওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, 'হল সংসদ তো এখানে আমাদের (প্রশাসনের) সহযোগী। ওরা তো হল মাঠ ভাড়া নেয় না। হল সংসদ কি ভাড়া নিতে পারে? সে কিভাবে ভাড়া নিবে? হল সংসদ তো বিশ্ববিদ্যালয়ের অথরিটি। আমার সংসদ আমার প্রশাসনের সহযোগী। হল সংসদ এটা বরাদ্দ নেয় না। এটা ভাড়া নেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমরা প্রয়োজন হলে সংসদের সহযোগিতা নিয়ে থাকি।'
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







