বগুড়া পৌরসভার দেড়শত বছরের অবসান
জিয়া পরিবারের হাত ধরে বগুড়া পৌরসভার তিন বিশেষ পরিবর্তন
রাহাত রিটু : প্রতিষ্ঠার ১৪৯ বছর ৯ মাস ১৯ পর বগুড়া পৌরসভার বিলুপ্তি হচ্ছে। এক সময়ের ছোট্ট শহর বগুড়া সার্ধশতবছর পর সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হচ্ছে। বগুড়া টাউন পৌরসভা হয়ে ওঠা এবং বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন হয়ে উঠতে সময় লাগলো ১৫০টি বছর।
ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নগরী ও বাণিজ্যকেন্দ্র বগুড়া শহর পরিচালনার জন্য ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই বগুড়া পৌরসভা গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর আয়তন মাত্র ১.২৫ বর্গ মাইল ছিলো এবং জনসংখ্যা ছিলো মাত্র ৭ হাজার। বৃটিশ শাসনামলে বগুড়া পৌরসভা গঠন করার পর প্রথম চেয়ারম্যান হন বৃটিশ নাগরিক ডব্লিউ ওয়াভেল।
আর এই পৌরসভার শেষ চেয়ারম্যান ছিলেন এড. একএম মাহবুবর রহমান। এড. একেএম মাহবুবর রহমান প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। এর আগে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মরহুম সৈয়দ আনোয়ারুল ইসলাম বাবলা। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ছিলেন বগুড়া পৌরসভার শেষ মেয়র।
বগুড়া পৌরসভা বাংলাদেশের বগুড়া জেলার অন্তর্গত একটি নগরভিত্তিক স্থানীয় সরকার সংস্থা যেটি বগুড়া শহরের পরিচালনা করে থাকে। ১৮৭৬ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি ‘‘ক’’ শ্রেনীর পৌরসভা এবং ২১ টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৮১ সালের ১ আগস্ট এটি ক শ্রেণিতে উন্নীত হয় এবং এর আয়তন বাড়ানো হয়।
আয়তন করা হয় ১৪.৭৬ বর্গ কিলোমিটার। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বগুড়া পৌরসভার আয়তন বেড়ে ৬৯.৫৬ বর্গ কিলোমিটার করা হয়। এটিই ছিলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম পৌরসভা। বগুড়া পৌরসভাকে ক‘ শ্রেণিতে উন্নীত করছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া, ২১ টি ওয়ার্ড এবং বর্ধিত করেছেন তার স্ত্রী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০ এপ্রিল এই পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষণা দিবেন তাদের সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই পরিবারের তিন রাষ্ট্রনায়কের হাত ধরে বগুড়া পৌরসভা সমৃদ্ধি লাভ করেছে। যা বিরল ঘটনা। বর্তমানে এই পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। তার সব ছিলো বগুড়া পৌরসভার। বছরে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হয় কিন্তু বগুড়া পৌরসভার ৪০ কোটি টাকা আয় করে।
জনবলের দিক থেকেও সেই শর্ত পূরণ করেছে আয়তনের দিক থেকেও পৌরসভাটি অনেক বড় শিল্পকারখানা, অবকাঠামোগত বিষয়ে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হওয়ার দিক থেকে অনেক এগিয়ে ছিলো তার পরও বগুড়া পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়নি এতদিন।
আরও পড়ুনসিটি কর্পোরেশন হওয়ার জন্য প্রথমে প্রি নিকার এবং পরে নিকার কমিটিতে অনুমোদন নিতে হয়। হবে। গত ২৭ আগস্ট প্রাক নিকার কমিটি গঠিত হওয়ার পর কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কমিটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের সুপারিশ করবে। প্রাক নিকার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রাশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) কমিটি তা অনুমোদন করবে।
এদিকে সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পথ সুগম হয় ২০২৪ এর আগস্টের পর থেকে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এর তৎপরতা বেশি দেখা গেছে। ২০২৫ এর ২৪ ফেব্রুয়ারি বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত পত্রের প্রেক্ষিতে বগুড়া পৌর এলাকায় সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) বিধিমালা,২০১০ এর বিধি-৫ অনুযায়ী গণবিজ্ঞপ্তি জারি এবং এলাকার অধিবাসীদের মতামত/আপত্তি নিস্পত্তিপূর্বক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ফিরোজ মাহমুদ স্বাক্ষরিত পত্রে গনবিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়। বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. মাহবুবর রহমান ইতোপূর্বে জানিয়েছেন ১৮৭৬ সালে বগুড়া পৌরসভা গঠিত হয়। সে সময় সুত্রাপুর, কাটনার পাড়া এবং শিববাটি মৌজা নিয়ে পৌরসভা গঠিত হয়।
পরবর্তীতে এর আয়তন বেড়ে ১২ বর্গকিলোমিটার করা হয়। দীর্ঘদিন এই অবস্থায় ছিলো। সে সময় ওয়ার্ড ছিলো ১২টি। ২০০৬ সালে ১৮ অক্টোবর বিএনপির নেতৃত্বোধীন জোট সরকার পৌরসভার আয়তন ও ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি করে গ্যাজেট প্রকাশ করে। এর আয়তন করা হয় প্রায় ৭০ বর্গ কিলোমিটার। মোট মৌজার সংখ্যা ৫৪ টি এবং ওয়ার্ড করা হয় ২১ টি।
বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচির তারেক রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বগুড়া পৌরসভার আয়তন এবং ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয় সিটি কর্পোরেশন করার জন্য। কিন্তু পরে আর সময় পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে আর বগুড়ার দিকে নজর দেয়নি।
মন্তব্য করুন









