বগুড়ার বাজারে মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ
স্টাফ রিপোর্টার : গত মাসের এই সময় বগুড়ার বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগির কেজি খুচরাতে বিক্রি হয় ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা। আর বর্তমানে এই জাতের মুরগি বগুড়ার বাজারগুলোতে ৩৭০ থেকে ৩৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সাধারণত ঈদের পরে বাজারে মুরগির দাম কম থাকলেও এবার ভিন্ন চিত্র। তবে ব্রয়লার মুরগি দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি এই জাতের মুরুগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খামারি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়ায় অনেক খামারি মুরগি পালন বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া গত দুই-তিন মাসে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুরগি মারা যায়। এ কারণে খামারে সোনালি মুরগির উৎপাদন কম হয়েছে।
ফলে সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা এই মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া চলমান জ্বালানি সংকটও মুরগির দাম বাড়ার পিছনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করেন তারা। গতকাল শনিবার বগুড়ার ফতেহ আলী, বকশীবাজার, বউবাজারসহ বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা দোকানে এক কেজি সোনালি মুরগির দাম পড়ছে ৩৭০ থেকে ৩৯০ টাকা। আর কালারবার্ড নামে পরিচিত হাইব্রিড ধরনের সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়।
বিক্রেতারা জানান, রোজা শুরুর আগে এবং রোজার মধ্যে বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৯০ টাকায় বিক্রি হয়। সাধারণত ঈদের সপ্তাহখানেক আগে মুরগির চাহিদা এবং দামও বাড়ে। প্রতি বছর ঈদের পরে এই দাম কমলেও এবার উল্টো বেড়েছে।
বগুড়ার খামারিদের দাবি, গত কয়েক মাসে মুরগির বাচ্চার দাম দেড় গুণের বেশি বেড়েছে। ২০ থেকে ২৫ টাকার বাচ্চার দাম এখন ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা। মুরগির খাবারের দামও বেড়েছে। এছাড়া শীত ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অনেক মুরগি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, ফলে সরবরাহ সংকটে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দাম বেড়েছে। খামারি পর্যায়ে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং কালারবার্ড নামে পরিচিত হাইব্রিড সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুনবকশী বাজারের বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, খামারেই মুরগির উৎপাদন কম। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় ঈদের আগ থেকেই সোনালি মুরগির দাম বেশি। তিনি আরও বলেন, দাম বাড়ার কারণে বিক্রিও কমে গেছে। মূলত মুরগির বিভিন্ন রোগ এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এ সমস্যা হতে পারে।
রেললাইন বাজারের জাহিদুর রহমান জানান, একটু দাম কমা শুরু হতেই দুই-তিন দিন পর আবারও তা বেড়ে গেছে। মূলত, সরবরাহ না থাকায় বাড়তি চাহিদার কারণে এমনটা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুরগির বাজারে ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় ব্রয়লার মুরগি দিয়ে, আর বাকি ৩০ শতাংশ সরবরাহ আসে কালারবার্ড অর্থাৎ সোনালি ও লেয়ার জাতের মুরগি থেকে। গত এক মাসে পোলট্রি খাতে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বেড়েছে।
পাশাপাশি হঠাৎ গরমসহ মিশ্র আবহাওয়ার কারণে নানা রোগে হঠাৎ-ই খামারগুলোতে ব্যাপক হারে মুরগি মারা যাচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও দাম বাড়ার পিছনে অজুহাত হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন





_medium_1775922553.jpg)
