ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ভোট জালিয়াতি পর্যবেক্ষণ করলো বগুড়া সদর আসনের ভোটারগণ : জামায়াত প্রার্থী আবিদুরের বিবৃতি
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল সদ্যসমাপ্ত উপ-নির্বাচনে সামগ্রিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য এক বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, বগুড়া সদর নির্বাচনে সরকারি দল বিএনপি কেন্দ্র দখল, প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক আগাম রেজাল্ট শিট স্বাক্ষর, মহিলা পোলিং এজেন্টদের হুমকি প্রদান, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র হতে বহিষ্কার, নির্বাচন কেন্দ্রের সামনে সকাল থেকে মিছিল এবং পর্যায়ক্রমে ভোট কেন্দ্র থেকে বিরোধী দল বিতাড়ন করে বেলা ২টার পর থেকে নির্বিঘ্নে জাল ভোট প্রদানের মাধমে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ভোট জালিয়াতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।
প্রকৃতপক্ষে, সরকারি দল বিএনপি এবং তাদের অনুগ্রহ প্রার্থী রিটার্নিং অফিসার এই উপ-নির্বাচনকে সর্বময় একটি প্রহসন নির্বাচনের পরিণত করেছে। ফলাফল ঘোষণা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আমরা এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার একটিই কারণ, তা হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের বিশ্বাসী এবং বর্তমানের বিএনপি যে বিরোধী দলের স্বাধীন মতামতের অধিকারের বিশ্বাস করে না তা জাতির সামনে তুলে ধরা।
মূলত দিনব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যমে বগুড়ার উপ-নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির যে দৃশ্য বগুড়াবাসী তথা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে যে, তাতে এ কথা প্রমাণ হয়েছে যে সরকারি দলের তত্ত্বাবধানে কোন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
আবিদুর রহমান সোহেল সদ্যসমাপ্ত উপ-নির্বাচনে শত ভয়-ভীতি, সন্ত্রাস ও কালো টাকা উপেক্ষা করে যে সকল ভোটারগণ ভোট প্রদান করেছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞ জানান এবং গণভোটের রায়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুনএর আগে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল শহর জামায়াত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন। রিটার্নিং, প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসাররা সরাসরি প্রতিপক্ষ প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আগেভাগেই ফলাফলের শিটে সই নেওয়া হয়েছে। নামুজা এলাকায় তার এক কর্মীকে মারধর এবং পাঁচবাড়িয়া এলাকায় নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে সমর্থকদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শহরের নূরানী মোড় এলাকায় তার এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
ওই কর্মী বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি লিখিত অভিযোগ দিলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি মূলতঃ প্রতিপক্ষ দলের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন






