ভিডিও সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৬ বিকাল

​মুন্সীগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৩

​মুন্সীগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৩

সারাদেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকলেও মুন্সীগঞ্জ জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে জেলায় ইতোমধ্যে ৩ জন হামে আক্রান্ত রোগী মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে বিশেষ আইসোলেশন কক্ষ ও আলাদা বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জে এ পর্যন্ত মোট ৪৭ জন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১১ জন এবং এপিডেমিওলজিক্যালি (ইপি-লিঙ্কড) ১৫ জন রোগী পজিটিভ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে ৩ জন রোগী মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও বাকিরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. দেওয়ান নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, হামে আক্রান্ত তিনজন রোগী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের জন্য একটি বিশেষ আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার বলেন, হামের চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৫টি বিশেষ বেড ও একটি আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি শিশুদের জন্য মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। আক্রান্তদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। মূলত জটিলতার চিকিৎসা দেওয়া হয়। আক্রান্ত শিশুদের চোখের সুরক্ষায় ভিটামিন-এ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, দেশে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আক্রান্ত হয়ে, যার মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। এ পরিস্থিতিতে হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর বিশেষ হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও ২০২৪ সালে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এবং ভিটামিন-এ ও কৃমিনাশক

কর্মসূচি নিয়মিত না থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে, যা হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো টিকা প্রদান এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

​মুন্সীগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৩

মোহনগঞ্জে প্রতিবেশীর ঘরের বিছানা থেকে তিন বছরের শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

গাইবান্ধার সাঘাটায় নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ

সংসদে ৭২ ‘র সংবিধান নিয়ে হান্নান মাসউদের বক্তব্য : কী ভাবছেন জনগণ?

রাহুলের মৃত্যুতে স্তব্ধ রাজ চক্রবর্তী, স্মরণে 'চিরদিনই তুমি যে আমার'

টাঙ্গাইলের সখীপুরে গৃহবধূ খুন, ছেলে পলাতক