ভিডিও বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫০ রাত

২৫ মার্চের গণহত্যা: বিভীষিকাময় কালরাত্রির ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত, ২৫ মার্চের গণহত্যা: বিভীষিকাময় কালরাত্রির ইতিহাস

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। মানবসভ্যতার ইতিহাসে বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের এক কালো দিন। এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় স্মৃতি হিসেবে চিহ্নিত।

এই দিন রাতেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর ও হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা শুরু করে।

দিনটি জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়ে আসছে।

আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। বৈঠকের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করে তারা নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন।

সেই সঙ্গে ১৫ মার্চ থেকে ৩৫ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানান। এতে পূর্ব বাংলায় বেসামরিক শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আলোচনা চলতে থাকলেও তা প্রহসনে পরিণত হয়; আলোচনার নামে শাসকগোষ্ঠী কালক্ষেপণ করতে থাকে।

এক পর্যায়ে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা।

এদিকে ২৫ মার্চ ছিল অসহযোগ আন্দোলনের ২৪তম দিন। সেদিন সন্ধ্যায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক নিয়ে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, বাঙালি পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ‘পোড়া মাটি নীতি’ বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’। ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রি—যা এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতার প্রতীক হয়ে আছে।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরুর পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

স্বাধীনতা ঘোষণার পর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চের কালরাতে শুরু হওয়া গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রত্যাশিত মহান স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

প্রতি বছরই বাঙালি জাতি ২৫ মার্চের কালরাতে গণহত্যার শিকার সব শহীদ, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২৫ মার্চের গণহত্যা: বিভীষিকাময় কালরাত্রির ইতিহাস

সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

বিশ্বের ১ম দেশ হিসেবে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল ফিলিপাইন

ঈদের পরে প্রথম কার্যদিবস : টানা ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বহু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি : ডা. শফিকুর রহমান

গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া বাজারের সড়ক বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার