কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩ তদন্ত কমিটি গঠন
কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অপরটি কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে গঠিত এই তিন কমিটিকেই।
রোববার (২২ মার্চ) সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।
অপরদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তার মধ্যে একটি বিভাগীয় এবং অপরটি জোনাল। ৬ জন করে দুটি কমিটিতে ১২ জনকে সদস্য করা হয়েছে।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বিভাগীয় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম) আনিসুর রহমানকে। অন্যরা হলেন- বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ (চট্টগ্রাম) আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) রেজওয়ান-উল-ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম) আশিকুর রহমান, বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (চট্টগ্রাম) ডা. তাহামিনা ইয়াছমিন এবং কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (চট্টগ্রাম) মো. শহীদ উল্লাহ।
আরও পড়ুনঅপরদিকে জোনাল কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে। কমিটির অন্যরা হলেন- চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, চিফ সিগনাল ও টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার, চিফ মেডিকেল অফিসার (পূর্ব) ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ এবং চিফ কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (পূর্ব) জহিরুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক

_medium_1774155031.jpg)
_medium_1774154336.jpg)
_medium_1774153444.jpg)

_medium_1774109432.jpg)
_medium_1774075599.jpg)
_medium_1774077145.jpg)
_medium_1774109895.jpg)