বগুড়ায় ঈদে পাকিস্তানি ড্রেসে তরুণীদের আগ্রহ বেশি
হাফিজা বিনা : ক’দিন পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর উৎসব মানেই রঙের উল্লাস, আবেগের উচ্ছ্বাস আর শিকড়ে ফেরার টান। আর সেই টানেই বারবার ফিরে আসে সালোয়ার কামিজ, শাড়ি ও পাঞ্জাবির সাথে সাথে শিশুদের বাহারি সব পোশাক। যা বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের অনন্য প্রতীক। সময় বদলায়, ফ্যাশনের ধারা পাল্টায়, তবু ঈদ উৎসবে সবার চোখ যায় এই পোশাকগুলোতেই। কয়েক বছরের ব্যবধানে ঈদ আয়োজনে নারীদের পছন্দে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ভারতীয় টেলিভিশন সিরিয়ালের আলোচিত চরিত্রের নামে তৈরি করা পোশাকগুলো ৪-৫ বছর আগেও নারীদের পছন্দের শীর্ষে থাকলেও এখন সেটি দেখা যায় না। পাখি, কটকটি, কিরনমালা, বাহুবলী, বাজিরাও মাস্তানি, আলিফ লাইলা, হুররাম সুলতান ও পদ্মজার মত ড্রেসের মতো ঈদে একক কোনো ড্রেসের আধিপত্যও নেই। উল্টো ভারতীয় ড্রেসের পরিবর্তে এবার ঈদে পাকিস্তানি ড্রেসে নারীদের বেশি আগ্রহ দেখা গেছে।
বগুড়ার বিভিন্ন শপিংমল,শোরুম ও মার্কেটগুলোর সবখানেই পুরুষের তুলনায় শপিংমল কিংবা শোরুমে নারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। নারীদের কেনাকাটায় থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, গাউন ও শাড়ি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ঈদ উৎসবে এবার ভারতীয় পোশাকের চেয়ে পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশি। তবে একেবারেই যে কম তা কিন্ত নয়। পাকিস্তানি পোশাকের মধ্যে আগানূর,গুল আহম্মেদ, ফারসি, মারিয়া বি, সানা সাফিনাজ, কারিজমা, আফরোজ ও তাওয়াক্কাল নামের পোশাকের চাহিদা বেশি।
অন্যদিকে ভারতীয় পোশাকের মধ্যে কারচুপি, জারদোসি ও হাতের কাজ করা পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। গতবছরের ড্রেস নায়রার পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বেশি ঘের দেয়া শারারা ড্রেসটিও। আরও আছে অরগাঞ্জা, শিপন, জর্জেট, পাকিস্তানি কুর্তি, লেহেঙ্গা, ক্রপটপ গাউন, বার্বি গাউন ও ভারত থেকে আমদানি করা কটন, আদ্দি, পিয়রের ওপরে কাজ করা বাহারি সব পোশাক। মানভেদে পাকিস্তানি বিভিন্ন ধরনের ত্রিপিস ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ার নিউমার্কেট, রানারপ্লাজা, জলেশ্বরীতলার বিভিন্ন বিপনীবিতান ও বগুড়া হকার্স মার্কেটে এবার সুতি ও আরামদায়ক সিল্ক ত্রি-পিসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের কাজ করা পাকিস্তানি গজ কাপড় বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করার মত। এছাড়াও খুব বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে বাহারি ডিজাইনের কুর্তি।
বগুড়া রানার প্লাজায় মা এবং ভাইকে সাথে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা ভার্সিটি পড়ুয়া তরুণী ইসরাত বলেন, ভার্সিটিতে ক্লাস করার জন্য আরামদায়ক ড্রেস বেশি রাগে। সেজন্য আমার সুতি থ্রি-পিস বেশি পছন্দের। তাই এবারও একটা সুতির থ্রি-পিস কিনেছি। এছাড়াও একটা পার্টি ড্রেস হিসেবে পাকিস্তানি গুলবাহার ব্রান্ডের ড্রেস কিনেছি।
আরও পড়ুনসব ছাপিয়ে নিউমার্কেটে ক্রেতাদের চাপ ছিল সর্বোচ্চ। কাপড়ের তুলনামূলক মান ও সহনীয় দামের কারণে মধ্যবিত্তের কাছে নিউমার্কেটের চাহিদা বেশি। এই মার্কেটে সব ধরণের ও সব বয়সীর কাপড় পাওয়া যায়। এ কারণে রমজানের প্রায় শুরু থেকেই বেচাকেনা জমে উঠেছে। মার্কেটের অধিক পরিচিত দোকান রণি ক্লথ স্টোর এর স্বত্তাধিকারী কাঁলাচাদ জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শুরু থেকেই ক্রেতার উপস্থিতি ভাল। বেচাকেনাও ভাল। আবহাওয়া ভাল থাকায় রমজানের শুরু থেকেই মানুষজন অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে এখানে কেনাকাটা করতে পারছেন।
ঈদ কেবল নিজের জন্য কেনাকাটা নয়, বরং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দিন। সামর্থ্যবানরা যেমন কাছের মানুষদের দামি পোশাক উপহার দিচ্ছেন, তেমনি উৎসবের এই রঙ ছড়িয়ে পড়ছে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝেও। এটিই ঈদের প্রকৃত সার্থকতা। যেহেতু ২০২৬-এর ঈদুল ফিতরে রোদের তীব্রতা এবং হুটহাট বৃষ্টির সম্ভাবনা উভয়ই বিদ্যমান, তাই সুতি কাপড়ই এবার অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে আভিজাত্য বজায় রাখতে কাজের সূক্ষ্মতা ও রঙের সঠিক নির্বাচনেই লুকিয়ে আছে আসল সৌন্দর্য।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1773245418.jpg)
_medium_1773244827.jpg)
_medium_1773244489.jpg)
_medium_1773244270.jpg)
_medium_1773243710.jpg)
_medium_1773243452.jpg)
_medium_1773247038.jpg)