বগুড়ার সোনাতলায় জ্বালানির চাহিদা মেটাচ্ছে গোবরের লাঠি
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : সোনাতলায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন রান্নার জন্য গরুর গোবর ও পাটকাঠি দিয়ে তৈরি করা গোবরের লাঠি বা ঘুঁটো দিয়ে জ্বালানি চাহিদা মেটাচ্ছেন। জ্বালানির অভাব দূর করতে এ অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গোবরের লাঠি বা ঘুঁটো।
উপজেলার গৃহবধুরা এই গোবরের লাঠি নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়ে, আবার অনেকে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। জ্বালানির অভাব দূর করতে ইতিমধ্যে ওই উপজেলায় নারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গোবরের লাঠি। এক সময় এ অঞ্চলের নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন রান্নার জন্য গরুর গোবর কুড়িয়ে এনে পাটখড়ি কিংবা কাঠের লাঠি দিয়ে গোবরের জ্বালানি তৈরি করতেন।
কিন্তু বর্তমানে গ্যাস, কাঠ ও অন্যান্য জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে গ্রামের গরু পালনকারী অধিকাংশ পরিবার গোবরের তৈরি লাঠির দিকে ঝুঁকছেন। ২-৩ ফুট লম্বা লাঠি বা পাটখড়ির গায়ে হাতে মুষ্ঠি দিয়ে মেখে তৈরি করা হয় গোবরের লাঠি। এগুলো শুকাতে বাড়ির উঠানে বা রাস্তার পাশে রোদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সাধারণত ৫/৭ দিন রোদে শুকানোর পর এগুলোর জ্বালানির উপযোগী হয়। এরপর মজুদ করে রাখা হয় রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও নারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দিনদিন তারা এই জ্বালানির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, গ্রামীণ নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা গোবরের ঘুঁটের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।
আরও পড়ুনতারা গোবর, পাটখড়ি ও তুষ দিয়ে জ্বালানির উপকরণ তৈরি করছেন। এতে পরিত্যক্ত গোবরের অপচয় রোধ হচ্ছে এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি এ ধরনের জ্বালানির ছাই ফসলি জমিতে প্রয়োগ করলে মাটির ক্ষারতা হ্রাস পায় এবং জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
উল্লেখ্য, এক সময় এ অঞ্চলের নারীরা গাছের ডাল-পালা ও পাতা সংগ্রহ করে নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটালেও বর্তমানে কাঠ খড়ির দাম বেড়ে যাওয়া এবং অবাধে গাছপালা নিধন করায় বর্তমানে গোবরের ঘুঁটের কদর বেড়েছে।
মন্তব্য করুন



_medium_1772296659.jpg)




