ভিডিও শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৪৫ বিকাল

পোস্টার ছাড়াই শুরু নির্বাচনি প্রচারণা, আচরণবিধি মানতে কড়াকড়ি

ছবি: সংগৃহীত, পোস্টার ছাড়াই শুরু নির্বাচনি প্রচারণা, আচরণবিধি মানতে কড়াকড়ি

এই প্রথম পোস্টার ছাড়াই শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারছেন, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

এবার আচরণবিধি লঙ্ঘনে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিধি ভাঙলে ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে। ইসি জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে কোনো শোকজ ছাড়াই সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রতীক পাওয়ার পরপরই নয়, একদিন পর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রচার ও ভোটের দিনে ড্রোন, কোয়াডকপ্টারসহ এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, একক জনসভায় তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দমাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। এআই ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য বা অপপ্রচার, নারীদের সাইবার বুলিং এবং বিদেশ থেকে সশরীরে প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও সীমিত আকারে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ, পলিথিন ও রেকসিনের মতো পরিবেশবিরোধী সামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

তিন সপ্তাহের এই প্রচারপর্বে আচরণবিধি মানার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে অঙ্গীকারনামাও নেবে নির্বাচন কমিশন।

আচরণবিধির ‘গুরুতর’ অপরাধের ক্ষেত্রে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। আগে আচরণবিধিতে আরপিও অনুচ্ছেদটি ছিল না, এটা এবার যুক্ত করা হয়েছে।গণমাধ্যমের সংলাপ ও সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার সুযোগ রাখা হয়েছে। কমন প্ল্যাটফর্মে রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট আসনে, সব প্রার্থীকে নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে একদিনে তাদের ইশতেহার বা ঘোষণাপত্রগুলো পাঠ করার ব্যবস্থা করবেন।

নতুন বিধিমালায় প্রযুক্তি ও পরিবেশ সুরক্ষায়ও কঠোরতা আনা হয়েছে। প্রচারে ড্রোন বা কোয়াডকপ্টারের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের নেতারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন, তবে আকাশ থেকে লিফলেট বা অন্য কোনো প্রচারসামগ্রী বিতরণ করা যাবে না। কোনো ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটারের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ নিষিদ্ধ, আর স্লিপের আকার সর্বোচ্চ ১২ সেন্টিমিটার গুণ ৮ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে—দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে, তবে শব্দসীমা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল। নির্বাচনে ভোটার স্লিপ দেওয়ার যে প্রথা রয়েছে তার আইনগত ভিত্তি দেওয়া হয়েছে আচরণ বিধিমালায়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

  • গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বিলবোর্ডের বিষয়ে ইসি বলেছে, বিলবোর্ডে শুধু যেগুলো ডিজিটাল বিলবোর্ড, সেগুলোতে আলোর ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

  • গণমাধ্যমের সংলাপ ও সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার সুযোগ রাখা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনে সব প্রার্থীকে নিয়ে একদিনে তাদের ইশতেহার বা ঘোষণাপত্রগুলো পাঠ করার ব্যবস্থা করবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো নির্বাচনি এলাকায় একক কোনো জনসভায় একই সঙ্গে তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন না।

ইসির সংশোধিত আচরণবিধিমালায় যানবাহন ব্যবহার করে প্রচারণার ক্ষেত্রেও বেশকিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনরূপ শোডাউন করা যাবে না। নির্বাচনি প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনো ধরনের মশাল মিছিলও করা যাবে না। সংশোধিত আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না।

এছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাবে না। যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা চলার সময় ভোটকেন্দ্রের ভেতর কোনো ধরনের যান চলাচল করতে পারবে না। নির্বাচনি প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশকিছু ধারা যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।

সংশোধিত আচরণবিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করবেন।

প্রার্থী তার প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার করতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘৃণা বা বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারো চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ কোনো রকম ক্ষতিকর কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচার করতে পারবেন না কোনো প্রার্থী।

ফেসবুক বা অন্য মাধ্যমে প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও বলা হয়েছে বিধিমালায়।

একইভাবে ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না।সত্যতা যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট শেয়ার ও প্রকাশ করা যাবে না বলেও বলা হয়েছে আচরণবিধিমালায়।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ‘রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করিবার জন্য কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্র হনন কিংবা সুনাম নষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা সম্পাদনা করে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো কনটেন্ট বানানো যাবে না।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঈদের দিনে বৃষ্টির পূর্বাভাস

জবি ছাত্রদল নেতা আশরাফুলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ

৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক দফায় কমলো স্বর্ণের দাম

ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

ঈদযাত্রায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী