জিকিরের অবাক করা ১০ উপকার
আল্লাহ তায়ালার জিকিরের মাধ্যমে সুন্নতের প্রতি আগ্রহ জন্মায়, ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগ আসে, গুনাহের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়। আল্লামা ইবনে কাইয়্যিম (রহ.) একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার জিকিরের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে এবং তার ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে একটি পুস্তিকা লেখেন, তার নাম ‘আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব।’ এ কিতাবে তিনি আল্লাহতায়ালার জিকিরের এক শর বেশি উপকারিতা লিখেছেন। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফায়দা উল্লেখ করা হলো-
১. জিকির শয়তানকে রুখে দেয় এবং তার শক্তিকে ভেঙে দেয়।
২. জিকির আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।
৩. জিকির করার দ্বারা অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়।
৪. জিকিরের মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি, আনন্দ ও প্রফুল্লতা সৃষ্টি হয়।
৫. জিকির করার দ্বারা আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জন হয়।
আরও পড়ুন৬. আল্লাহ তায়ালার জিকিরের বরকতে মুখ পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, মিথ্যা, অশ্লীল কথাবার্তা থেকে নিরাপদ থাকে। অভিজ্ঞতা ও গবেষণা থেকে প্রতীয়মান হয়, যে ব্যক্তির মুখ আল্লাহর জিকিরে অভ্যস্ত হয়ে যায়, সে এসব মন্দ বিষয় থেকে বাঁচতে পারে।
৭. জিকির সহজতর ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও সব ইবাদত থেকে উত্তম। জিকিরে শরীরের ওপর কোনো চাপ পড়ে না।
৮. স্বয়ং আল্লাহতায়ালা জিকিরকে সত্যায়ন করেন, আর তাকে সত্যবাদী বলে অবহিত করেন। আর যাকে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা সত্যবাদী বলে থাকেন, তার হাশর মিথ্যাবাদীদের সঙ্গে হতে পারে না। হাদিসে এসেছে, যখন বান্দা বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’, তখন আল্লাহতায়ালা বলেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আমিই সবচেয়ে মহান।
৯. জবান যতক্ষণ জিকিরে নিমগ্ন থাকে ততক্ষণ অনর্থক কথাবার্তা, মিথ্যা, পরনিন্দা ইত্যাদি থেকে নিরাপদ থাকে। এর কারণ হলো- মুখ তো বন্ধ থাকবে না, হয় খোদার স্মরণে মগ্ন থাকবে, অন্যথায় অনর্থক কথাবার্তায় লিপ্ত থাকবে। অন্তরের অবস্থাও ঠিক এমনই, যদি তা আল্লাহতায়ালার মহব্বতে আচ্ছন্ন না থাকে, তাহলে সৃষ্ট জীবের মহব্বত তাকে গ্রাস করে ফেলবে।
১০. শয়তান মানবজাতির প্রকাশ্য শত্রু। শয়তান মানুষকে যেকোনোভাবে অশ্লীলতায় নিমজ্জিত করতে চায়। এ শত্রু দূর করার মাধ্যম জিকির ছাড়া অন্য কিছু নয়। হাদিস শরিফে এমন অনেক দোয়া আছে, যেগুলো পাঠ করলে শয়তান কাছে আসতে পারে না।
মন্তব্য করুন









