দুর্ভোগে হোটেল ব্যবসায়ী ও গৃহিণীরা
পাবনার বেড়ায় রাত নয়টা বাজলেই থাকে না গ্যাস সরবরাহ
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া পৌর এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) আওতাধীন এই এলাকায় রাত ৯টার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ অন্যান্য কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার হোটেল ব্যবসায়ীসহ হাজারো পরিবার।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক গ্রাহক জানান, সন্ধ্যার পর পরিবারের সবাই একসাথে থাকার সময় রান্নার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি হয়। অথচ ঠিক সেই সময়েই গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে আগেভাগে রান্না করে রাখছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে কাঠ, কয়লা বা এলপি গ্যাসও ব্যবহার করছেন, যা বেশ ব্যয়বহুল।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) বাঘাবাড়ি রিজিওনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বেড়ায় ১ হাজার ৩০০ গ্রাহক গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছেন। এরমধ্যে আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি।
বেড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, দিনে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও রাত হলেই হোটেল ব্যবসায়ী ও গৃহিণীদের চিন্তা বেড়ে যায়। রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় গৃহিণীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নাসহ কোনো কিছুই ঠিকমত করতে পারেন না।
পৌর এলাকার দক্ষিণ কর্মকারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা শিউলি খাতুন বলেন, গ্যাসের বিল ঠিকই দিচ্ছি, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। প্রায় প্রতিদিন একই অবস্থা। বৃশালিকা মহল্লার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, অফিস থেকে ফেরার পর দেখা যায় গ্যাস থাকেনা। ফলে রান্না করতে না পারায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনগ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে ছোট হোটেল, চায়ের দোকান ও খাবার বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। আগেভাগেই দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যার পর ক্রেতা বেশি থাকলেও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় রান্না বন্ধ থাকে। এতে প্রতিদিন লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। অবিলম্বে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক এবং রাতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানান পৌরবাসী।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) বাঘাবাড়ি রিজিওনাল অফিসের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাস সংকট রয়েছে। গ্যাসের অপচয় রোধে মাস তিনেক হয় রাতে গ্যাস বন্ধ রাখা হচ্ছে। অনেক গ্রাহক একটি চুলায় একাধিক পরিবারের রান্না করা ও ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক কাজে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করছেন। গ্রাহকদের গ্যাস ব্যবহার বিষয়ে সচেতন করতে ইতোমধ্যেই মাইকিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক








