মাধ্যমিকে বই এসেছে ৫৮.৮৭ শতাংশ
বগুড়ায় শিক্ষাবর্ষ শুরুর সাতদিনেও ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বই পায়নি শিক্ষার্থীরা
নাসিমা সুলতানা ছুটু : নতুন বছরের সাতদিন পেরিয়ে গেলেও বগুড়ায় ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে কোনো পাঠ্যবই পৌঁছায়নি। অপরদিকে বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বই ছাড়াই ক্লাস করাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।
বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে জেলায় মাধ্যমিক স্তরের জন্য ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৮টি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা রয়েছে, তার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সরবরাহ হয়েছে ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৮৫টি বই। অর্থাৎ চাহিদার মাত্র ৫৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছে। ঘাটতি রয়েছে এখনও ৪১ দশমিক ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির একটি বইও এখনো জেলায় এসে পৌঁছায়নি। অন্যান্য শ্রেণির ক্ষেত্রেও বইয়ের সরবরাহ অসম্পূর্ণ থাকায় নির্ধারিত সময়ে শতভাগ বই বিতরণ সম্ভব হয়নি।
বই না থাকায় জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো বই, নোট কিংবা বোর্ডে লিখে পাঠ দিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠ বুঝতে পারছে না এবং নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ জানান, প্রাথমিকের সকল শ্রেণির বই এলেও মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনও তাদের কাছে আসেনি। যেহেতু স্কুলে ক্লাস শুরু হয়েছে, তাই শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে এলে তাদের সহ-শিক্ষা (কো-কারিকুলাম) বিষয়ে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠানেও ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে পারেননি। এছাড়া সপ্তম শ্রেণির একটি বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। বগুড়া করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অসিত কুমার সরকার জানান, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ দুই শ্রেণির বই না পাওয়ায় আমরা চরম বিব্রত অবস্থায় পড়েছি। এতে পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুনঅভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বগুড়া জিলা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রাবেয়া তাবাসসুম অভিযোগ করেন, বই ছাড়া পড়াশোনা চালানো কার্যত অসম্ভব। এতে করে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে এবং মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়ছে। দ্রুত বই সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অষ্টম শ্রেণির অঅরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হানিফার জানান, অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা রয়েছে। তাই শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। বই পেতে দেরি হলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাবে। তাদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি হবে। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এমন বই সংকট শিক্ষার জন্য অশনিসংকেত। দ্রুত সমস্যা সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ জানান, পাঠ্যবই মুদ্রণ ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় দেরির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। অনেকগুলো কারিকুলাম বদলানো হয়েছে। এজন্য মূলত বই আসতে দেরি হচ্ছে। তবে আশা করা যাচ্ছে আগামি ১৫ জানুয়ারি মধ্যে সকল শ্রেণির সকল বই শিক্ষার্থীরা পেয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, আগামি বছর থেকে এই ধরনের সমস্যা আর হবে না। বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে সকল বই পৌঁছে যাবে।
মন্তব্য করুন




_medium_1764257966.jpg)




