ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামির ফয়সাল করিম মাসুদের দুই সহযোগী সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এদিন তাদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্র নরসিংদী জেলার সদর থানাধীন তরুয়া এলাকাস্থ মোল্লাবাড়ির সামনে তরুয়ার বিলের পানি থেকে উদ্ধার করে র্যাব। এ সময় ফয়সালকে আটক করা হয়। ফয়সাল প্রধান আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের শ্যালকের বন্ধু।
আরও পড়ুন
অপরদিকে ফয়সাল করিমকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গত ১৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের হালুরঘাট ও ধোবাউরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডের শরিফ ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। ২০ ডিসেম্বর দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।