ভিডিও রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:২৫ রাত

বগুড়ার শাজাহানপুরে হাইব্রিড মরিচ চাষে ভাগ্য বদলেছে অনেকের

বগুড়ার শাজাহানপুরে হাইব্রিড মরিচ চাষে ভাগ্য বদলেছে অনেকের। ছবি : দৈনিক করতোয়া

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : লেখাপড়া শেষে কিছুদিন চাকরির পিছে ছুটেছেন। কিন্তু দেখা পাননি চাকরি নামের সোনার হরিণের। একপর্যায়ে ফসল চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নেন। আর তাতেই বদলে যায় তাদের ভাগ্য। হাইব্রিড মরিচ চাষে আত্ম-কর্মসংস্থান খুঁজে পেয়েছেন মতিউর রহমান (৩২) ও রুবেল হোসেন (২৫) নামের দুই শিক্ষিত বেকার যুবক।

আত্মপ্রত্যয়ী যুবকরা হলেন-বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের চকমোমিন গ্রামের আলহাজ আব্দুল কাদেরের ছেলে মতিউর রহমান এবং একই গ্রামের আব্দুল খালেক মন্ডলের ছেলে রুবেল হোসেন। ২০১০ সালে এইচএসসি পাশ করে লেখাপড়ার ইতি টানেন মতিউর রহমান। কিছুদিন চাকরির জন্য ছুটাছুটি করেন।

চাকরি না পেয়ে পৈতৃক সম্পত্তিতে চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি মাদলা মালিপাড়া বাজারে করছেন কীটনাশকের ব্যবসা। চলতি বছর ৩ বিঘা জমিতে সবজি জাতীয় ফসল চাষ করেছেন। এর মধ্যে ১ বিঘা জমিতে হাইব্রিড মরিচ, ১ বিঘায় বেগুন এবং অপর ১ বিঘায় ফুলকপি চাষ করেছেন। নিয়মিত পরিচর্যা আর পরিমিত পরিমাণে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে সবগুলো সবজির বাম্পার ফলন পেয়েছেন মতিউর। সেই সাথে সবজির ভালো দাম পেয়ে লাভবান হয়েছেন তিনি।

মতিউর জানান, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি তিনি হাইব্রিড মরিচ লাগিয়েছিলেন। মরিচ বিক্রি করে ইতোমাধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকা পেয়েছেন। মরিচ তোলা যাবে আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত। তাতে ১ বিঘা জমি থেকে তিনি আড়াই লাখ টাকার মরিচ বিক্রির প্রত্যাশা করছেন। অপরদিকে ১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষে সর্বসাকুল্যে তার খরচ পড়বে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

অপরদিকে তিন বছর আগে স্নাতক পাশ করে চাকরি খুঁজছেন রুবেল হোসেন। পাশাপাশি পৈতৃক ফসলি জমিতে চাষাবাদে জড়িয়েছেন। ফুলকপি ও আলুর পাশাপাশি তিনি চলতি মৌসুমে ৫৮ শতক জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে মরিচ বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা পেয়েছেন। আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত মরিচ তোলা যাবে। বাজার দর ঠিক থাকলে ৫৮ শতক জমির মরিচ বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা রুবেল হোসেন। ৪ লাখ টাকার মরিচ উৎপাদনে তার খরচ পড়বে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

উপজেলার শাহনগর সবজি নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, হাইব্রিড মরিচ এখন উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে কৃষকদের কাছে স্থান করে নিয়েছে। গতানুগতিক ফসলের চেয়ে মরিচ চাষে কৃষকরা লভবান হচ্ছেন। তবে ভালো জাতের চারা, উপযুক্ত পরিচর্যা, পরিমিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগে কৃষককে সচেতন থাকতে হবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শাজাহানপুর উপজেলায় সাড়ে ৩শ’ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মরিচের চাষ হয়েছে। ভালো ফলন এবং বাজার মূল্য পেয়ে মরিচ চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার শাজাহানপুরে হাইব্রিড মরিচ চাষে ভাগ্য বদলেছে অনেকের

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় বৃদ্ধা নিহত

আমাদের দাবি সরকার মেনে নিয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন করছে না: রাস্তায় স্বাস্থ্য সহকারীরা | Daily Karatoa

বগুড়ার শাজাহানপুরে গৃহবধূ ও দুই শিশু হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

বিপিএল নিলামে কে কত টাকায় বিক্রি হলেন

মেট্রোরেলের ছাদে ব্যক্তি : যাত্রীদের ভোগান্তি | Metro Rail | Daily Karatoa