কাঠগোলাপে বছরে তিন লাখ টাকা আয় করেন রাবি শিক্ষার্থী নয়ন
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : করোনাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়ির ছাদে কাঠ গোলাপের নার্সারি করে সফল হয়েছেন বগুড়া সারিয়াকান্দির নয়ন। পড়াশোনার পাশাপাশি বছরে তিনি তিন লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন তার কাঠ গোলাপের চারা বিক্রি হচ্ছে বিদেশে। তার এ অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী।
আব্দুল মোমিন নয়ন বগুড়া সারিয়াকান্দির পৌর এলাকার বারইপাড়া গ্রামের ছেলে। পড়াশোনা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে। তিনি এখন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। করোনাকালে যখন তার বিশ্বিবদ্যালয় বন্ধ ছিল তখন শখের বশে তিনি তার বাড়ির ছাদে শুরু করেন কাঠ গোলাপের বাগান। ধীরে ধীরে তার বাগানটি এখন কাঠ গোলাপের নার্সারিতে পরিণত হয়েছে।
নয়ন এখন থাইল্যান্ড থেকে ক্যান্ডি লিমন, প্রাইড অব লুই, সুপারক্রিট, এস কে সিরাজসহ জগৎ বিখ্যাত প্রায় ১২০ জাতের কাঠ গোলাপের চারা আমদানি করছেন, যা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি শেষে দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, হুগলিসহ ইউরোপ, আমেরিকা, লন্ডন চীনসহ বিদেশের বিভিন্ন দেশে বিক্রি হচ্ছে।
এসব দেশে বসবাসকারী প্রবাসীরা নয়নের কাছ থেকে কাঠ গোলাপের চারা সংগ্রহ করে তা লাগেজে করে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছেন। নয়ন পুরো সপ্তাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে শুক্র এবং শনিবার বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে তার বাগানে কাজ করেন। সেখানে কাটিং পদ্ধতিতে নতুন কাঠ গোলাপের চারা তৈরি করেন এবং তা বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করেন।
এখন তার বাগানে শত শত দুর্লভ প্রজাতির কাঠ গোলাপের চারা সংগ্রহ হয়েছে। এসব চারা বিক্রি করে তিনি বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। যা দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাড়তি টাকা তার সংসার খরচের কাজেও ব্যয় করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নয়নের এ সফলতার গল্প এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। নয়ন দেশের বাইরে বিক্রির পাশাপাশি কাঠ গোলাপের চারা মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ফ্রিতে সরবরাহ করছেন। এ পর্যন্ত তিনি ১৫টি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে কাঠ গোলাপের চারা রোপণ করেছেন বিনামূল্যে।
আরও পড়ুননয়ন বলেন, করোনাকালে বাড়িতে বসে ইউটিউব ঘেঁটে ছাদ বাগানে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। এখন আমি নিজের ছাদবাগান সাজানোর পাশাপাশি অপরের বাগান সাজাতে সহযোগিতা করছি। গত কয়েকদিন আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু আমার নার্সারি থেকে কাঠ গোলাপের চারা সংগ্রহ করেছেন। দেশের পাশাপাশি আমার উৎপাদিত চারা বিদেশের বিভিন্ন দেশে বিক্রি হচ্ছে।
লাগেজের মাপ অনুযায়ী আমি চারাগুলো বিশেষভাবে প্রস্তুত করে দিচ্ছি। পড়াশোনার পাশাপাশি কাঠ গোলাপের চারা বিক্রি করে আমি বছরে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করছি। থাইল্যান্ড থেকে আমি জগৎ বিখ্যাত নানা ধরনের কাঠগোলাপের চারা ইমপোর্ট করছি এবং তা মোবাইলের মাধ্যমে বিক্রি করছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরত আলী বলেন, আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকদের কাছে নয়ন একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নয়নের গল্প পরে অনেক বেকার যুবকরা নিজেরা উদ্যোক্তা হবেন এবং তারা আত্মকর্মসংস্থান খুঁজে পাবেন।
এতে আমাদের দেশের চাকরির প্রতি চাপ অনেকাংশেই কমে যাবে। এতে একদিকে যেমন বাড়ির ছাদ ঠান্ডা থাকছে, অপরদিকে বাড়তি আয় সংসারের অভাব মোচন করছে। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের আমরা উদ্বুদ্ধ করছি এবং উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি।
মন্তব্য করুন









