ভর্তি পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধার অভিযোগ
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে হঠাৎ ছাত্রদল-শিবির মুখোমুখি পরে কোলাকুলি
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় কিছু ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন-এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন।
তবে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা গেলেও শেষ মুহূর্তে দু’টি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দুপুর ১টার কিছু পরে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ কোলাকুলি করেন, ছবি তোলেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন। এদিকে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা নিয়ে কোথাও কোন অনিয়ম হয়নি। হয়তো কোন ভুল বুঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে হৈ চৈ হয়েছিল যা পরবর্তীতে নিরসন হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য আজ শনিবার সারাদেশের মত বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনে বেলা ১১টায় ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এই কেন্দ্রে ১২ হাজার ৫৯৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। দুপুর ১২টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার মুহূর্তে অভিযোগ ওঠে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি কক্ষে কলেজে কয়েকজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষার খাতা (ওএমআর শিট) অনৈতিকভাবে পূরণ করা হচ্ছে।
পরে এনিয়ে ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়। পাল্টাপাল্টি স্লেগানও দেওয়া হয়। পরে উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কলেজের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সেক্রেটারি তামিম উত্তেজনার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। যে বিষয় নিয়ে হয়েছে ওই বিষয়ের অভিযোগটি আমরা কলেজের অধ্যক্ষ কাছে করেছি। তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের আজিজুল হক কলেজ শাখার আহবায়ক রজিবুল ইসলাম শাকিল বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা উপলক্ষে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হেল্প ডেস্ক এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের বিশ্রামের জন্য আমরা ব্যবস্থা করেছি। উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে সেঠি ঠিক হয়ে গেছে।
আরও পড়ুনছাত্রদলের কলেজ শাখার সদস্য সচিব রাফিউল আলামিন বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের সুসম্পর্ককে নষ্ট করতে তৃতীয় একটি পক্ষ সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে ছাত্রদল এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা সেটি রুখে দিয়েছে। আমরা এখানে একে অপরের পরিপূরক হয়ে সহাবস্থানে রয়েছি।
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে পরীক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, কলেজ থেকে একজন ফোন করে আমাকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে একটি অভিযোগ করে বলেন, ‘কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।’ অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষ এবং অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বললে সবাই বলেন, এটি একটি রিউমারকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তবে, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহফুজুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই তিনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি বলে তাকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যে কক্ষ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে ওই কক্ষে পরীক্ষার আসন বসানো হয়নি। অতএব ওই কক্ষে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছু করার প্রশ্নই ওঠে না। ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে পরীক্ষা শেষে কিছু ভুল বুঝাবুঝির কারণে ক্যাম্পাসে হৈ চৈ সৃষ্টি হয়, যা পরে নিরসন হয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন


_medium_1777129754.jpg)
_medium_1777129529.jpg)


_medium_1777128931.jpg)
