ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ১৬ ড্রাম চিটাগুড় উদ্ধার
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের সংরক্ষিত এলাকা থেকে দুধর্ষ কায়দায় চিটাগুড় চুরির ঘটনা ঘটেছে। মিলের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন পিট থেকে বিপুল পরিমাণ চিটাগুড় চুরি করে নিয়ে যায় একটি চক্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশ ও মিল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় ১৬টি ড্রাম ভর্তি প্রায় ৪ হাজার ৮শ’ কেজি চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২ এপ্রিল দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সুগার মিলের প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক সুভাষ চন্দ্র সিংহ বাদি হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল দুপুরে মিল কর্তৃপক্ষ গোপন সংবাদে জানতে পারে যে হরিহরপুর গ্রামের মমিনুল ইসলামের বসতবাড়ি সংলগ্ন বাঁশঝাড়ের ভেতর শুকনো পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ চিটাগুড় লুকানো আছে।
খবর পেয়ে মিলের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৩টি নীল রঙের ড্রাম খুঁজে পান এবং পরবর্তীতে মিলের নিম বাগান এলাকা থেকে আরও ৩টি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ড্রামে ৩শ’ কেজি করে মোট ৪ হাজার ৮শ’ কেজি চিটাগুড় ছিল। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, যে মমিনুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা মিলে গত ২ এপ্রিল ভোরের কোনো এক সময় সুগার মিলের পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন স্টিল ট্যাংক থেকে কৌশলে এই চিটাগুড় সরিয়ে ফেলেছিল।
পুলিশ আসার খবর পেয়ে প্রধান অভিযুক্ত মমিনুল সটকে পড়লেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জব্দ তালিকা মূলে মালামালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এই চুরির ঘটনায় মমিনুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান জোরালো করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, আমরা সুগার মিল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৬ ড্রাম চোরাই চিটাগুড় জব্দ করেছি। আসামিরা অত্যন্ত সুকৌশলে এগুলো বাঁশঝাড়ের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল যেন কারো নজরে না আসে।
প্রধান অভিযুক্ত মমিনুল ইসলাম বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাকে এবং তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সরকারি সম্পদ চুরির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন






