ভিডিও শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:১৬ বিকাল

সব সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি, সর্বনিম্ন প্যাকেট ১০০

সংগৃহিত,সব সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি, সর্বনিম্ন প্যাকেট ১০০

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তরুণদের তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক  কর্মশালায় এ দাবি জানানো হয়।

কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচি পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি—৩৫.৩ শতাংশ (গ্যাটস ২০১৭)। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে।

এতে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা প্রাপ্ত রাজস্ব থেকে দ্বিগুণেরও বেশি। দেশের বর্তমান বহুস্তরবিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো জটিল এবং তা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর নয়।


বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য থাকায় তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তাই আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাশাপাশি উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে প্যাকেট প্রতি ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে দাম বাড়ানো হলে তামাক ব্যবহার কমবে উল্লেখ করে অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, ‘৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণের ধূমপান শুরু করার প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

কর্মশালায় উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে তামাকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বাজেট প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কর বৃদ্ধির ইস্যুকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচি পরিচালক শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক পণ্যের কর বৃদ্ধি একটি ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে তামাক ব্যবহার কমাতে তামাকপণ্যে কার্যকরভাবে করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধি করা হবে।

অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপিতে যোগ দিলেন দেড় হাজার নেতাকর্মী

বেগম জিয়াকে দেখেই রাজনীতিতে এসেছি: স্পিকার

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের ২৩ নেতাকর্মী আটক

ঈদযাত্রায় গাবতলীতে ঘরমুখো মানুষের চাপ

দেশের রিজার্ভ আরও বেড়েছে

নারায়ণগঞ্জে পশুর হাটের বরাদ্দ চাইলেন আহত জুলাই যোদ্ধারা