অপারেশন থিয়েটারে মোটরসাইকেলের ফগলাইট, হাসপাতাল সিলগালা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে ‘লাইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে ওই ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে আধুনিক সার্জিক্যাল লাইটের পরিবর্তে মোটরসাইকেলের ফগলাইট ব্যবহারসহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কার্পাসডাঙ্গা এলাকার ওই ক্লিনিকের পরিচালক পরিচয়ে মামুন অর রশিদ শাওন এবং গাইনি চিকিৎসক পরিচয়ে সেখানে রোগী দেখতেন মাসুমা ফেরদৌস স্নিগ্ধা। অভিযুক্ত দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তবে তারা প্রকৃতপক্ষে নিবন্ধিত চিকিৎসক নন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে তারা আগেই ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে যান।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসন সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দেখা যায়, ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসা মান বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো আধুনিক সরঞ্জাম নেই। সেখানে যেখানে উন্নতমানের সার্জিক্যাল লাইট থাকার কথা, তার পরিবর্তে মোটরসাইকেলের ফগলাইট ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। এ ধরনের পরিবেশে অস্ত্রোপচার করা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া ক্লিনিকের সার্বিক পরিবেশেও নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ছাড়াও একই ফ্রিজে খাবার ও ওষুধ একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা স্বাস্থ্যবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মনীতি ও অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা ও অপারেশন পরিচালনা করে আসছিল। অভিযানের সময় একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করে ক্লিনিকটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি আরও জানান, অভিযানের খবর পেয়ে ক্লিনিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভুয়া ডাক্তার দম্পতি পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুনএদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তাই ভুয়া ডাক্তার ও অনুমোদনহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নতুন নির্দেশনার আলোকে অভিযান শুরু হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটি সিলগালা ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক


_medium_1772890850.jpg)




