বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কারাগারে
বরিশালে আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুরের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালত চত্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করার পর শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাদিকুর রহমানকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে প্রবেশ করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তউল্লাহর আদালতে একটি মামলার শুনানি চলার সময় কয়েকজন আইনজীবী উত্তেজিত হয়ে আদালত কক্ষে ঢোকেন। তাদের মধ্যে সাদিকুর রহমানও ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, নথিপত্র তছনছ এবং বিচারকের সামনে উচ্চস্বরে বক্তব্য দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।
ওই ঘটনায় সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীরজা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, বরিশাল মহানগর আদালতের পিপি নাজিমুদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন বাবলু, অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন, অ্যাডভোকেট বশির উদ্দিন সবুজ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন।
আরও পড়ুনবরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি প্রফেসর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিচার কার্যক্রম চলাকালে এ ধরনের ঘটনা আদালতের মর্যাদা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি। দলীয় রাজনীতির প্রভাব আদালত প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়লে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।’
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক



_medium_1772030582.jpg)



