মাতৃকোল হারানোর শোক ঘুচবে জনতার ভালবাসায়
চির বিদায় নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি’র চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে শোকাবহ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের মেয়াদ শেষ হলেও মানুষের হৃদয়ের শোকগাঁথা এখনও শেষ হয়নি। আমরা সকলেই এই মহীয়সী নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। দেহ ত্যাগ করলেও তিনি মানুষের হৃদয়ে চির জাগ্রত থাকবেন শ্রদ্ধায় ও ভালবাসায়! বেগম খালেদা জিয়া কেবল বাংলাদেশের নয়, শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়েছেন ভারত উপমহাদেশসহ বিশ্ববাসীর।
বিএনপি পরিবারে মাত্র ক’দিন আগেই মায়ের বুকে সন্তানের ফিরে আসার আনন্দে নেমে এসেছিল দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে প্রাণের স্বস্তি। জমে থাকা কান্নার জলে ধুয়ে গিয়েছিল জমে থাকা কষ্ট, অভিমান আর ক্লান্তি। মায়ের আঁচলে আশ্রয় পেয়ে তারেক রহমান খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর হারানো মাতৃকোল, আর সাথে সাথে হৃদয়ের ভাঙা টুকরোগুলো জোড়া লাগতে শুরু করেছিল তাদের ভক্ত অনুসারীদের। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আবার সব যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেল! খালেদা জিয়ার এই চলে যাওয়ার ক্ষতি নিঃসন্দেহে অপূরণীয়। তবুও আশাকরি, জাতি এই শোক সহ্য করে গণতন্ত্র, সমতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত থাকবেন। গড়ে তুলবেন এক নতুন বাংলাদেশ।
“দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪দিন পর” বাংলাদেশের মাটিতে তারেক রহমান ফিরেছেন একজন পরিণত ষ্টেটসম্যান হয়ে। সবাই বলাবলি করছে, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের মানুষের অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমান পুরানো হিংসাত্মক ধারায় নয়, বরং নতুন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাজনীতি করবেন এবং দলকে জনতার ভরসার শক্তি হিসেবে গড়ে তুলবেন। ইতোমধ্যে তিনি সেই অঙ্গীকার করেছেন যার বাস্তবায়ন দেখার প্রত্যাশায় রয়েছে দেশবাসী।
রাজনীতিতে পতন-উত্থান একটি অনিবার্য সত্য। তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানতম আলোচিত চরিত্র এবং বহু মানুষের ভরসার আশ্রয়স্থল। দেশের তরুণ সমাজও এখন অনেক হতাশ। যে বিশ্বাস নিয়ে একদিন তারা সংগঠিত হয়েছিল কিন্তু মাত্র ১৮ মাসের মাথায় তাদের সেই বিশ্বাস যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। চুরি করেছে কেউ, গুছিয়েছে নিজেদের আখের। প্রত্যাখাত এই তারুণ্য, আম-জনতার অপহৃত সেই স্বপ্নকে আবার ফিরিয়ে এনে নতুন বাস্তবতায়, নতুন বন্দোবস্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জগুলো তারেক জিয়া দৃঢ়চিত্তে, নির্মোহভাবে মোকাবেলা করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। তারেক জিয়াকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ও মেরুকরণ স্পষ্ট হচ্ছে। আমার নিজের বিবেচনায় সেটা ইতিবাচক। ষড়যন্ত্রের বাইরে গিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’- চেতনায় তিনি দেশবাসীকে উজ্জীবিত করতে পেরেছেন। তিনি ক্ষমতায় আসীন না থাকলেও ক্ষমতার ভর যে এখন তাঁর দিকেই সেটা বোঝা যায় বিশ্বের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ, বিবৃতি এবং বিএনপিতে ঘিরে কূটনীতিবিদদের তৎপরতায়।
বিএনপি’র মধ্যপন্থার রাজনীতি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিরাজনীতিকরণ নয় বরং বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অভিপ্রায়কে সম্মান দেখিয়ে পরমত সহিষ্ণুতাকে জাতীয় জীবনের মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হোক আগামীর রাজনৈতিক ব্রত।
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের প্রেক্ষিত, বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার ঐক্য এবং আমেরিকার চীন বিরোধিতা, ইউক্রেনকে সহযোগিতা করার ফলে যে বৈরী রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে তাতে সবার আগে বাংলাদেশকে রেখে অগ্রসর হওয়ার চ্যালেঞ্জ অনেক। বাংলাদেশ সেটা মোকাবেলা করতে সক্ষম বলেই আমি বিশ্বাস করি। আগামীর সরকার যদি সত্যিকারের জনবান্ধব হয়, তাদের গৃহীত নীতি ও কর্মসূচীগুলি যদি ঘোষণা অনুযায়ী অগ্রাধিকার পায় তাহলে জনতার শক্তিই দেশের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দেশকে সুরক্ষা দিবে। ধৈর্য্য মানুষকে সত্যিকারের বিজয়ী করে সেটা খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন। পাহাড় থেকে সমতল, নারী ও পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই মিলেই বাংলাদেশ। তারেক জিয়া সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে, কারো প্রতি বৈরীতা নয় - নীতিতে সমৃদ্ধ ও বিকশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন বলে আমরা আশা রাখি। তারেক জিয়া নিজেও সেই প্রতিজ্ঞার কথা বলেছেন। আমরা জনগণ তার কথায় বিশ্বাস রাখতে চাই।
আরও পড়ুনআধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে দেশের ভেতরে ঐক্যের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতি থেকে মুক্তি চায়। সবাই বলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবেন কিন্তু আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় আসীনরা সেটা প্রমাণ দিতে পারেন নি। জনগণ বারবার প্রতারিত হয়েছে। তারেক রহমান তাঁর গণসংবর্ধনায় নিজের একটা পরিকল্পনা থাকার কথা বলেছেন, সেই পরিকল্পনাটি দেশের জনগণের জন্য হোক, মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী, তোষামদকারীর পক্ষে নয়। তৃণমূল থেকে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, অপরকে আক্রমণ, পরমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা থেকে তিনি জনগণকে মুক্ত করার পরিকল্পনা নিবেন সেটা দেশবাসী প্রত্যাশা করেন। মাতৃকোল হারানোর শোক তিনি কাটিয়ে উঠবেন তাঁর প্রিয় দেশের মানুষের ভালবাসায়। ধন্যবাদ।
লেখক
আতাউর রহমান মিটন
প্রাবন্ধিক ও গবেষক
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







_medium_1767597641.jpg)
