ভিডিও শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:৪১ দুপুর

 দিনাজপুরের কাহারোলে ধানের অভাবে ১০৪টি চালকল বন্ধ, শ্রমিকদের দুর্দিন

 দিনাজপুরের কাহারোলে ধানের অভাবে ১০৪টি চালকল বন্ধ, শ্রমিকদের দুর্দিন। ছবি : দৈনিক করতোয়া

কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের কাহারোলে ধানের অভাবে ১৪৮টির মধ্যে ১০৪টি চালকল ও চাতাল বন্ধ রয়েছে। ধানের অভাবে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় বন্ধ থাকছে এসব চালকল। ফলে এই পেশায় নিয়োজিত ১৫শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে অতি কষ্টে জীবন অতিবাহিত করছেন। মিল মালিকদেরও বিপুল অংকের টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে।

চালকল মালিক সূত্রে জানা যায়, ইরি-বোরো মৌসুম ও আমন মৌসুমে ধান কাটা শুরু হলে চালকলগুলোতে রাত-দিন চলতো ধান সিদ্ধ, শুকানো ও ভাঙানোর কাজ। প্রতিদিন উপজেলা থেকে শতাধিক ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাল পাঠাতেন মিল মালিকরা। তবে আগের মতো পর্যাপ্ত ধান সরবরাহ না থাকায় চাল পাঠাতে পারছেন না মিল মালিকরা।

কাহারোল উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে বর্তমানে প্রকারভেদে প্রতি মণ হাইব্রিড মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২২০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে। ধানের দাম বেশি হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী মিল-চাতালের বন্ধ করে অন্য ব্যবসায় নেমে পড়েছেন। উপজেলা রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মিল চাতাল ব্যবসায়ী লঙ্কেশ্বর রায় জানান, ধানের দাম বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুণতে হচ্ছে। এখন এ ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

গড়েয়া হাটের মেসার্স রফিক হাসকিং মিলের নারী কর্মচারী স্বামী পরিত্যাক্তা রহিমা বেগম জানান, আগের মতো আর রোজগার হয় না। ৩ ছেলে ২ মেয়েকে নিয়ে দিন চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এছাড়াও শ্রমিক আব্দুস সালামসহ অনেকেই জানান, তারা ধান সিদ্ধ, শুকানো ও ভাঙানোর কাজ করেন। আগে মিল ও চাতালে কাজ করে প্রতিদিন ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা এবং চালের খুদ ও গুড়া মিলতো। তা দিয়ে খাওয়া চলতো।

আরও পড়ুন

কিন্তু এখন পেটের ভাত জোগাড় করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই এখন অন্য কাজে চলে গেছেন।
উপজেলার চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক জানান, চালকল ও চাতালের ব্যবসা এখন আর আগের মতো নেই বললেই চলে। কারণ ধানের দাম অনেক বেড়ে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অ.দা.) মো. মাসুদ রানা জানান, উপজেলায় ১৪৮টি মিল চাতাল ছিল। এখন রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় যে, বর্তমানে ৪৪টি মিল ও চাতাল চালু অবস্থায় রয়েছে, যা আমাদের খাদ্য বিভাগের সাথে প্রতি বছর চাল সরবরাহ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে থাকেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জেলার প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২জন নিহত , আহত ৩

ভোলায় শ্বশুর বাড়িতে আসার পথে লঞ্চে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ

মাতৃভূমি ও দেশকে রক্ষা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে ২০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু

ঈদের দিনে লাউয়াছড়ায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়